বাল্টিক ও আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়ার ওপর অবৈধভাবে সামুদ্রিক অবরোধ আরোপের গভীর ষড়যন্ত্র করছে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো। নরওয়েতে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত নিকোলে করচুনভ এক সাক্ষাৎকারে এই অভিযোগ তুলে জানিয়েছেন, ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রগুলো বাল্টিক-আর্কটিক অঞ্চলকে কার্যত একটি সামরিক ব্যারাকের আদলে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। একের পর এক সামরিক মহড়া আয়োজনের মাধ্যমে এই অঞ্চলে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা খর্ব করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইনেরও চরম লঙ্ঘন করা হচ্ছে বলে মনে করছে মস্কো।
রাষ্ট্রদূত করচুনভের মতে, নরওয়ে, সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের মতো ন্যাটোর নতুন ও পুরনো সদস্যরা রাশিয়ার বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ সফল করতে পশ্চিম থেকে পূর্বে পরিবহণ ও লজিস্টিক করিডোর তৈরির কাজ ত্বরান্বিত করছে। এই দেশগুলো তাদের সামরিক ঘাঁটি এবং পরিকাঠামো একে অপরের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়ে রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি করছে।
রুশ কর্মকর্তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এসব উস্কানিমূলক তৎপরতা বন্ধ না হলে মস্কো পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বাল্টিক ও নর্ডিক দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সাথে রাশিয়ার তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। গত কয়েক মাসে বিভিন্ন অজুহাতে রাশিয়া-সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু কার্গো জাহাজ আটকের ঘটনাকে ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে অভিহিত করেছে ক্রেমলিন। এর আগে রুশ প্রেসিডেন্ট দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিকোলে পাত্রুশেভও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, সেন্ট পিটার্সবার্গ ও কালিনিনগ্রাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোকে অচল করে রাশিয়ার অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়ার ছক কষছে ন্যাটো। মস্কোর দাবি, ন্যাটো এখন কৃষ্ণ সাগর ও বাল্টিক সাগরকে তাদের ‘অভ্যন্তরীণ জলসীমা’ হিসেবে ব্যবহার করার যে চেষ্টা চালাচ্ছে, তা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে সংকটে ফেলছে।
-সাইমুন










