এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেছেন ওই গৃহবধূ। ওই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
কিছুক্ষণ পর স্বামীসহ ওই আনসার সদস্য ফিরে আসেন। এবার ধর্ষণকারী আনসার সদস্য গৃহবধূর স্বামীকে বিশেষ কাজের কথা বলে নিচে নিয়ে যান। এ সময় ভুক্তভোগী গৃহবধূকে ধর্ষণ করে অন্য আনসার সদস্য। বেশ কিছুক্ষণ পর স্বামী ওপরে এলে গৃহবধূ তাকে ধর্ষণের বিষয়টি জানান। এক পর্যায়ে ভোররাতে দুজনে মিলে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে আসেন।
এ সময় হাসপাতাল ফটকে একজন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে দেখা হলে তাকে সব খুলে বলেন। পরে ওই পুলিশ সদস্যের পরামর্শে সদর থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন তারা। এর পরই স্বামী-স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে আনসার ক্যাম্পে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় সেখান থেকে অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে রাতেই অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর উপজেলার ফলদা পূর্বপাড়া গ্রামের শাহাদাত হোসেন (২৯) এবং কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার আওতিয়াপাড়া গ্রামের আবু সাঈদ (২৫)। মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিরাপত্তার দায়িত্বে তাঁদের নিয়োগ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ভুক্তভোগী ওই কিশোরী (১৬) বর্তমানে একই হাসপাতালের গাইনি বিভাগে চিকিৎসাধীন। তাঁর বাবার বাড়ি মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলায়। অপ্রাপ্তবয়স্ক হলেও প্রায় সাত মাস আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় এক তরুণের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বর্তমানে এই দম্পতি নারায়ণগঞ্জে বসবাস করেন।
পুলিশ, ভুক্তভোগী এবং হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে একটি সুতা তৈরির কারখানায় কাজ করেন ওই কিশোরীর স্বামী। তিনি ব্যাটারিচালিত ভ্যানে সুতা পরিবহন করেন। গতকাল বেলা তিনটার দিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে স্বামীর ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় নানাবাড়িতে বেড়াতে বের হয় ওই কিশোরী। রাত ১২টার দিকে জেলা সদর হাসপাতালের অদূরে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এলে ভ্যানের ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে যায়। পরে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে রাত সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে একটি গাছের নিচে আশ্রয় নেন।
সেখানে দায়িত্বরত আনসার সদস্য শাহাদাত হোসেন ও আবু সাঈদ নিরাপত্তার কথা বলে হাসপাতালের আটতলার নতুন ভবনের নিচতলায় কিশোরী ও তাঁর স্বামীকে নিয়ে যান। এরপর ভয়ভীতি দেখিয়ে স্বামীকে নিচে আটকে রেখে ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে গিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ করেন দুই আনসার সদস্য। পরে নিচতলায় নেমে কিশোরী তাঁর স্বামীকে পুরো বিষয়টি জানায়। বিষয়টি জানাজানি হলে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর স্বজনদের সহযোগিতায় দুই আনসার সদস্যকে আটক করা হয়। পরে খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে ওই দুই আনসার সদস্যকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
ভুক্তভোগী কিশোরীর স্বামী বলেন, ‘ভয়ভীতি দেখিয়ে আমার কাছ থেকে স্ত্রীকে নিয়ে দুই আনসার সদস্য ধর্ষণ করেছে। তারা আনসারের পোশাক পরিহিত ছিল।’
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানার পরেই হাসপাতালে দায়িত্বরত সব আনসার সদস্যদের ডেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়েছে। পরে পুলিশ এসে তাঁদের আটক করে নিয়ে গেছে। ভুক্তভোগী কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় আজ দুপুরে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম হাসপাতালে গিয়ে ভুক্তভোগী কিশোরীর সঙ্গে কথা বলেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকরাম হোসেন বলেন, হাসপাতালে আশ্রয় নেওয়া এক মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই আনসার সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।
-মামুন










