বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আমরা এমন একটি নির্বাচন চাই, যেখানে ভোটাররা নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে এবং নিজের ভোটের সঠিক প্রতিফলন দেখতে পাবে। এর জন্য প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে, প্রতিটি বুথে সিসি ক্যামেরা থাকা জরুরি। সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে এটি নিশ্চিত করতেই হবে।”
আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর নির্বাচনের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বিগত নির্বাচনের মতো মেকানিজম করা নির্বাচন আমরা দেখতে চাই না। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেউ যদি কোনো ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিং করার চেষ্টা করে, তাহলে সবাই মিলে এদেশ থেকে তাদের পালাতে বাধ্য করা হবে।”
‘২৪-এর আন্দোলনে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা
তিনি বলেন, “চব্বিশের জটিল দিনগুলোতে, বিশেষ করে আগস্টের ৩, ৪ এবং ৫ তারিখে সেনাবাহিনীর দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণেই এই জাতি একটি গৃহযুদ্ধ থেকে রক্ষা পেয়েছে। আপনারা সেই ভূমিকা না রাখলে আজকে আমি এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারতাম না।”
নির্বাচন নিয়ে প্রত্যাশা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “বিগত তিনটি নির্বাচনে কোনো ভোট হয়নি। তবে আগামী নির্বাচন নিয়ে আমরা আশাবাদী। ভোটারদের জন্য বাধাহীন পরিবেশ এবং তাদের ভোটের সঠিক প্রতিফলন নিশ্চিত করা গেলেই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে।”
জাতির বীরদের স্মরণ
মুক্তিযুদ্ধে সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “’৭১-এ কোনো সিভিলিয়ানের মুখ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা প্রচারিত হয়নি, হয়েছে আপনাদের (সামরিক বাহিনীর) মুখ দিয়ে। …এ দায়িত্ব ছিল রাজনীতিবিদদের। তারা দায়িত্ব পালন করেননি বলেই সেনাবাহিনীর একজন অফিসার এই মহান দায়িত্ব পালন করেছেন।” তিনি বলেন, যার যেখানে অবদান, তার স্বীকৃতি না দিলে ভবিষ্যতে জাতির জন্য কেউ এগিয়ে আসবে না।
জামায়াতের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “চব্বিশের আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামী ছিল সবচেয়ে মজলুম দল। আন্দোলন দমাতে আমাদের নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, কিন্তু জনগণ তা মানেনি। আমরা দল রক্ষার জন্য নয়, দেশ ও জাতি রক্ষার জন্য লড়াই করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে তরুণরা কাজ পাবে, বেকার ভাতা নয়। যেখানে দুর্নীতি বন্ধ হবে ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় নয়, ১৮ কোটি মানুষের মুক্তি চাই।”
মোঃ আশরাফুল আলম | উপ-সম্পাদক










