বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাল সনদে শিক্ষকতা করার পথ বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশের সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষকের নিবন্ধন সনদ যাচাইয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)।
প্রাথমিকভাবে তিনটি জেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। জেলাগুলো হলো—গাজীপুর, নরসিংদী ও ভোলা। এই তিন জেলার সকল স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের তথ্য ও সনদ সবার আগে যাচাই করা হবে। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪ জেলার ৩৬ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানের সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষকের সনদ যাচাই করা হবে।
কেন এই উদ্যোগ?
এনটিআরসিএ’র সহকারী পরিচালক ফয়জার আহমেদ জানান, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে এনটিআরসিএ’র জাল নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে শিক্ষকতা করার খবর প্রকাশিত হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার প্রেক্ষিতেই জাল সনদধারী শিক্ষকদের শনাক্ত করতে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
যেভাবে চলবে যাচাই প্রক্রিয়া
গত ৭ জানুয়ারি এনটিআরসিএ’র সদস্য (পরীক্ষা, মূল্যায়ন ও প্রত্যয়ন) মুহম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক জরুরি পত্রে জানানো হয়, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান, সহকারী প্রধানসহ সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষকের তথ্য, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের এমপিও শিট এবং তাদের নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি যাচাই করা হবে।
ওই পত্রে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে নির্দিষ্ট ছকে সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষকের তথ্য এবং নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত রঙিন ফটোকপি ডাকযোগে, কুরিয়ারে বা সরাসরি এনটিআরসিএ কার্যালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে। এসব তথ্য প্রতিষ্ঠানের সভাপতি এবং প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক যৌথভাবে স্বাক্ষরিত হতে হবে।
কঠোর হুঁশিয়ারি
সংস্থাটি তাদের পত্রে সতর্ক করে দিয়েছে যে, এই তথ্য পাঠাতে কোনো ধরনের গড়িমসি করলে, তথ্য গোপন করলে বা সনদ টেম্পারিংয়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠির অনুলিপি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরসহ দেশের সকল জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
মোঃ আশরাফুল আলম | উপ-সম্পাদক










