হংকংয়ের আদালতে সাবেক প্রকাশক জিমি লাইয়ের সাজার বিষয়ে শুনানি শুরু

হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী কর্মী ও একসময়ের মিডিয়া মোগল জিমি লাই এবং তাঁর সহ-আসামিদের সাজার বিষয়ে সোমবার দেশটির আদালতে শুনানি শুরু হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অধীনে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাঁদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

৭৮ বছর বয়সী লাই বর্তমানে বন্ধ হয়ে যাওয়া ‘অ্যাপল ডেইলি’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা এবং চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির কট্টর সমালোচক। ২০১৯ সালে হংকং কাঁপানো বিশাল সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর বেইজিং কর্তৃক আরোপিত কঠোর নিরাপত্তা আইনের অধীনে ২০২০ সালে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

গত ডিসেম্বরে তিনি বিদেশি শক্তির সঙ্গে আঁতাত এবং রাষ্ট্রদ্রোহী নিবন্ধ প্রকাশের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন।

তাঁর এই দণ্ডাদেশ সাবেক ব্রিটিশ উপনিবেশ হংকংয়ে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্ব হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ১৯৯৭ সালে হংকং চীনা শাসনে ফিরে আসে।

বেইজিংয়ের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এই মামলাটি একটি পরীক্ষা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনসহ বিভিন্ন দেশের সরকার এই রায়ের সমালোচনা করেছে। রায়ের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি চীনের কাছে লাইয়ের প্রসঙ্গটি তুলেছিলেন, মন্তব্য করেন যে তিনি বিষয়টি নিয়ে “খুবই খারাপ” বোধ করছেন।

চার দিনব্যাপী এই শুনানিতে (Mitigation hearings) অংশ নিতে মামলার অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে লাই আদালতে উপস্থিত হন। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার কারণে তাঁদের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সাজা পরে ঘোষণা করা হবে।

সোমবার সকালে আদালত দুইজন কর্মীর সাজার বিষয়ে যুক্তি-তর্ক শোনে। তাঁদের আইনজীবীরা যুক্তি দেন যে তাঁদের মক্কেলদের সাজার মেয়াদ যথাক্রমে ১০ বছর এবং ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে হওয়া উচিত, তবে মামলায় তদন্তে সহায়তা করার কারণে তাঁদের সাজার মেয়াদ কিছুটা কমানোর আরজি জানানো হয়।

লাইয়ের আইনজীবী রবার্ট প্যাং বিকেলে তাঁর যুক্তি উপস্থাপন করবেন।