শ্রীপুরে সংরক্ষিত বনাঞ্চলঘেঁষা ফসলি জমির মাটি বিক্রির মহোৎসব

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেংরা এলাকার সংরক্ষিত বনাঞ্চলঘেঁষা কৃষিজমির মাটির প্রায় ১০০ ফুট গভীরে খনন করে লুটপাট করা হচ্ছে রাতের আধারে৷ মাটির গভীর এ খননের ফলে নিচের স্তরের মাটির পরিবর্তে দেখা মিলেছে সিলিকন বালু। এতে করে মাটি খেকোদের দাপট বেড়েই চলেছে।

সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে ভোররাত পর্যন্ত চলে এই দাপট। তাদের দাপটে আশপাশের আঞ্চলিক সড়কগুলোতে খানাখন্দেরও সৃষ্টি হয়েছে। হুমকিতে রয়েছে আশপাশের সংরক্ষিত বনাঞ্চল। প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতেও থামছে না মাটি বিক্রি।

টেংরা বাদশানগর এলাকার বাসিন্দারা জানান, স্থানীয় কৃষকেরা নামমাত্র মূল্যে কৃষকদের কাছ জমির মাটি কিনে নিয়ে গভীর খনন শুরু করে। বাদশানগর এলাকায় কৃষিজমিতে আনুমানিক প্রায় ১০০ ফুট গভীর পর্যন্ত খনন করা হয়েছে। নিচের স্তরে মাটি নেই, শুধু সিলিকন বালু।

এই এলাকার মাটি বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে শহিদুল ইসলাম শহীদের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, ‘আমি কৃষকদের কাছ থেকে মাটি কিনে কেটে বিক্রি করি। এত গভীর হবে না। কিছু কম হবে। এ পর্যন্ত আমি কোনো সরকারি জমির মাটি কেটে নিইনি। আপাতত মাটিকাটা বন্ধ রয়েছে।’

শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোকলেছুর রহমান বলেন, যেখানে কৃষিজমির মাটি গভীরে খনন করে কেটে নেওয়া হচ্ছে, তার পাশে বিশাল সংরক্ষিত বনাঞ্চল। মাটি লুটপাটের ফলে বনাঞ্চল হুমকিতে পড়বে। এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজীব আহমেদ বলেন, মাটিখেকোদের ধরতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে, বিশেষ করে মাটিখেকো শহীদকে ধরতে প্রতিরাতে অভিযান চালানো হচ্ছে। বর্তমানে বাদশানগর এলাকায় মাটি কাটা বন্ধ রয়েছে।

-মাহমুদুল হাসান, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি৷