নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর–বন্দর) আসনে নির্বাচনী মাঠে নাটকীয় মোড় এসেছে। আগে মনোনয়ন বাতিল হলেও আপিলের পর স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেনের প্রার্থিতা পুনর্বহাল করেছে নির্বাচন কমিশন। এতে আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জমে উঠেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আপিল শুনানি শেষে প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে মাকসুদ হোসেনকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
কেন বাতিল হয়েছিল প্রার্থিতা
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর থেকে প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে মাকসুদ হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল। সে সময় অভিযোগ ওঠে—
হলফনামায় সম্পদের তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি
এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনসংক্রান্ত স্বাক্ষরে ত্রুটি ছিল
দাখিল করা কাগজপত্রে তথ্যগত অসঙ্গতি পাওয়া গেছে
এসব কারণে নির্বাচনী আচরণবিধি ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
আপিলে কী বললেন মাকসুদ হোসেন
পরবর্তীতে মাকসুদ হোসেন নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। আপিলে তিনি দাবি করেন, মনোনয়নপত্রে যেসব ত্রুটির কথা বলা হয়েছে, সেগুলো অনিচ্ছাকৃত ও কারিগরি। প্রয়োজনীয় সংশোধনী কাগজপত্র জমা দিয়ে তিনি জানান, আইন অনুযায়ী তার প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগ নেই।
আপিল শুনানিতে কমিশন সন্তুষ্ট হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি এবার শুরু থেকেই আলোচনায়। বিএনপি, বাম দল ও বিভিন্ন ইসলামি দলের পাশাপাশি একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থীর উপস্থিতিতে ভোটের লড়াই বহুমুখী রূপ নিয়েছে। মাকসুদ হোসেনের প্রার্থিতা ফিরে আসায় এই আসনে ভোট বিভাজন আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, “প্রার্থিতা বাতিল ও পুনর্বহালের ঘটনা ভোটারদের মধ্যেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত এটি ভোটের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।”
কী বলছে নির্বাচন কমিশন
নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, “আপিল কর্তৃপক্ষ সব দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত দিয়েছে। প্রার্থিতা বৈধ হওয়ার পর তিনি নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন।”
সব মিলিয়ে, প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মাকসুদ হোসেন আবারও সক্রিয়ভাবে নির্বাচনী মাঠে ফিরলেন। এতে এই আসনের নির্বাচন আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
মাহমুদ কাওসার
নারায়ণগঞ্জ।










