সেঞ্চুরি না করেও চেজে দাপট কোহলির

ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একজন ব্যাটারের বড় অস্ত্র সতর্কতা । তবে কখনো কখনো মুহূর্তের উত্তেজনাই বদলে দেয় ম্যাচের গতিপথ। বরোদার কোটাম্বি স্টেডিয়ামে সেটাই হলো বিরাট কোহলির সঙ্গে। অনায়াসে আরেকটি ওয়ানডে সেঞ্চুরির পথে থাকা কোহলি এক মুহূর্তের ভুলেই থেমে গেলেন ৯৩ রানে, কাইল জেমিসনের বলে মাইকেল ব্রেসওয়েলের হাতে ক্যাচ।

অন্য কোনো দিন, অন্য কোনো ম্যাচে হয়তো ব্যাক-অব-দ্য-লেন্থ সেই বলটি মিড-অফের ওপর দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠাতেন কোহলি, কিংবা মাটিতে রেখে নিরাপদ শট খেলতেন। কিন্তু এই একটিমাত্র ভুলে হাতছাড়া হলো তার ৫৪তম ওয়ানডে শতক এবং গ্যালারিভর্তি দর্শকদের কাঙ্ক্ষিত নিখুঁত সমাপ্তি। সেটাই আবার মনে করিয়ে দিল—৫৫০-এর বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা কোহলিও শেষ পর্যন্ত মানুষই।

তবে ব্যক্তিগত মাইলফলক নিয়ে একেবারেই বিচলিত নন কোহলি। ম্যাচসেরা পুরস্কার নিতে গিয়ে তিনি বলেন, “সত্যি বলতে এখন আমি মাইলফলক নিয়ে ভাবি না। আমরা তাড়া করছিলাম, তাই পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলতে হয়েছে। একমাত্র লক্ষ্য ছিল দলকে স্বস্তিদায়ক অবস্থানে নেওয়া।”

কোহলির হঠাৎ বিদায়ে ৩০১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে ভারত। দ্রুত তিন উইকেট হারায় তারা। তবে শেষ পর্যন্ত কেএল রাহুল ও হার্শিত রানার সহায়তায় চার উইকেটে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।

আবারও চেজের নিয়ন্ত্রক কোহলি

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কোহলির ৯১ বলের ইনিংসটি ছিল দুই ভাগে বিভক্ত। প্রথম ভাগে আগ্রাসী ৪৪ বলে ফিফটি, ছয়টি বাউন্ডারি। দ্বিতীয় ভাগে সংযত ৪৪ বলে ৪৩ রান, মাত্র তিনটি বাউন্ডারি। ধীরগতির উইকেটে একটানা প্রায় ৪০ বল বাউন্ডারি না মেরে শুধু সিঙ্গেল-ডাবলসেই খেলেছেন তিনি।

রোহিত শর্মা আউট হওয়ার পর নামার সঙ্গে সঙ্গেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন কোহলি। জ্যাক ফোল্কসকে সোজা ব্যাটে মারা চার দিয়ে শুরু, এরপর পুল-হুক সব মিলিয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। অল্প সময়েই ওপেনার শুভমান গিলকে ছাড়িয়ে যান তিনি।

কোহলির ব্যাখ্যায়, “আমি তিন নম্বরে ব্যাট করি মানেই পরিস্থিতি বুঝে খেলতে হয়। প্রথম ২০ বলে চাপ তৈরি করতে চেয়েছিলাম, সেটাই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।”

অধিনায়ক শুভমান গিলও প্রশংসা করেন, “এই উইকেটে শুরুটা সহজ ছিল না, কিন্তু কোহলি এমনভাবে ব্যাট করল যে সবকিছু সহজ মনে হচ্ছিল।”

রানের পাহাড়ে কোহলি

অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ায় টানা দুই ডাকের পর কোহলি যেন অন্য এক ছন্দে। এরপর তার ইনিংসগুলো: ৭৪*, ১৩৫, ১০২, ৬৫* এবং এবার ৯৩। শেষ পাঁচ ইনিংসে মোট ৪৬৯ রান, গড় ১৫৫-এর বেশি।

এই ম্যাচে কোহলি পেরিয়েছেন ২৮ হাজার আন্তর্জাতিক রান—সবচেয়ে দ্রুত। ছাড়িয়ে গেছেন কুমার সাঙ্গাকারাকে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখন তার সামনে শুধু শচীন টেন্ডুলকার।

নিজের যাত্রা নিয়ে কোহলি বলেন, “এটা স্বপ্নের মতো। আমি কৃতজ্ঞ, গর্বিত। মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারছি—এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে?”

ফর্ম, ফিটনেস আর মানসিক স্বচ্ছতা—সব মিলিয়ে বিরাট কোহলির পথচলা এখন ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত বিস্তৃত।

আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্সকে মুস্তাফিজুর রহমানকে ছাড়তে নির্দেশ দেওয়ার পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও জোরালো হয়। এরপর বিসিবি দুই দফায় আইসিসিকে চিঠি দিয়ে ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানায়।

আইসিসি আজ (সোমবার) এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। তবে ৭ ফেব্রুয়ারি টুর্নামেন্ট শুরুর এত অল্প সময় আগে লজিস্টিক জটিলতার কারণে ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সুত্র : ক্রিকবাজ

-মীর মোমিন