দীর্ঘদিন আতঙ্কে ব্যাংক থেকে তুলে নেওয়া নগদ অর্থ আবার ধীরে ধীরে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে আসছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে তুলনায় অক্টোবরে মানুষের হাতে থাকা নগদ টাকার পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা কমেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, সেপ্টেম্বরে মানুষের হাতে নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল দুই লাখ ৭৪ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা, যা অক্টোবরে কমে দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৭০ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকায়। একই সময়ে ছাপানো টাকা বা রিজার্ভ মানির পরিমাণও প্রায় ৭ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা কমেছে।
এর আগে বিগত সরকারের সময়ে ব্যাংক খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাটের ঘটনায় মানুষের আস্থা বড় ধরনের ধাক্কা খায়। এতে আতঙ্কিত হয়ে বহু মানুষ ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বাসায় সংরক্ষণ করতে শুরু করেন। এর ফলে ব্যাংকগুলো তীব্র তারল্য সংকটে পড়ে এবং উচ্চ সুদ দিয়েও আমানত সংগ্রহে সমস্যায় পড়ে। ওই সময় প্রতি মাসেই মানুষের হাতে নগদ অর্থের পরিমাণ বাড়তে থাকে।
তবে গত বছরের আগস্টের পর থেকে পরিস্থিতিতে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। বিশেষ করে সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নগদ অর্থের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে কমেছে। মার্চে সাময়িকভাবে বাড়লেও এপ্রিল থেকে ওঠানামার মধ্য দিয়ে জুলাইয়ের পর আবার টানা হ্রাস পাচ্ছে।
মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, মানুষের হাতে থাকা টাকা ব্যাংকে ফিরে আসা দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ইঙ্গিত। কারণ ঘরে পড়ে থাকা অর্থ উৎপাদন বা বিনিয়োগে আসে না, কিন্তু ব্যাংকে জমা হলে তা শিল্প, ব্যবসা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যবহৃত হয়।
তিনি আরও বলেন, এই আস্থা টিকিয়ে রাখতে হলে ব্যাংক খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ভুয়া ঋণ প্রদানের প্রবণতা বন্ধ করতে হবে এবং পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা আরও স্বচ্ছ ও শক্তিশালী হওয়া জরুরি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, আগের কিছু সংকটের কারণে মানুষ আতঙ্কে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিয়েছিল। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে, মানুষের ভয় কমছে এবং তারা আবার ব্যাংকের ওপর আস্থা রাখতে শুরু করেছে।
তিনি জানান, ব্যাংক খাতে গ্রাহকদের আস্থা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোর ওপর নিয়ম-নীতি কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশনা দিয়েছে এবং গ্রাহকের আস্থা ক্ষুণ্ন করে—এমন কোনো কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
-আফরিনা সুলতানা










