বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনায় ‘আমরা এই এলাকার মালিক, আমরা জমিদার’ বলে বিতর্কিত মন্তব্য করে আলোচনায় আসা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামকে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় তার এই পদোন্নতি চূড়ান্ত করা হয়, যা নিয়ে ক্যাম্পাসে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
যেভাবে হলো পদোন্নতি
শুক্রবার অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় সিরাজুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদোন্নতির বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। এই পদোন্নতির মাধ্যমে তিনি সেকশন অফিসার (নবম গ্রেড) থেকে সহকারী রেজিস্ট্রার (ষষ্ঠ গ্রেড) পদে উন্নীত হলেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “সিরাজুল ইসলাম আগে থেকেই পদোন্নতির যোগ্য ছিলেন। তার বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে তাকে শাস্তি হিসেবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু নীতিমালা অনুযায়ী তার পদোন্নতি আটকে রাখার কোনো বিধান নেই। মূলত বৈষম্য নিরসন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
বিতর্কের প্রেক্ষাপট
গত বছরের আগস্ট মাসে চবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের পর আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সিরাজুল ইসলাম বলেছিলেন, “চবি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। আমরা এই এলাকার মালিক, আমরা জমিদার। জমিদারের ওপর কেউ হস্তক্ষেপ করবে, তা মেনে নেব না।”
তার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর জেরে জামায়াতে ইসলামী তার সংসদ সদস্য প্রার্থিতা বাতিল করে এবং তাকে হাটহাজারী উপজেলা আমিরের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও তখন তাকে শোকজ করেছিল।
‘বৈষম্য নিরসন’ বনাম পূর্বের পদোন্নতি
জানা গেছে, সিরাজুল ইসলাম ছাড়াও ‘বৈষম্যের শিকার’ দাবি করা আরও অন্তত ৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এবারের পদোন্নতির তালিকায় রাখা হয়েছে। তবে সিরাজুল ইসলামের ক্ষেত্রে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি এর আগেও ২০১০, ২০১৩ এবং ২০২২ সালে পদোন্নতি পেয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও ‘বৈষম্য নিরসন’ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তার এই পদোন্নতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নিজেকে ‘ইঞ্জিনিয়ার’ পরিচয় দেওয়া সিরাজুল ইসলাম হাটহাজারী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির। পদোন্নতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মুখে মুখে শুনতে পেরেছি, এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চিঠি পাইনি।”
মোঃ আশফুল আলম | উপ-সম্পাদক










