নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত রুট মিরপুর-১৪ থেকে আশুলিয়া হয়ে ফ্যান্টাসি কিংডম ও ইপিজেড পর্যন্ত চলাচলকারী ‘আলিফ’ নামক একটি বেসরকারি বাস কোম্পানির বিরুদ্ধে একচেটিয়া ব্যবসা পরিচালনা এবং যাত্রীদের জিম্মি করে চরম ভোগান্তিতে ফেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই রুটে অন্য কোনো পাবলিক বাস সার্ভিস না থাকায় যাত্রীরা একটি মাত্র কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।

অদ্ভুত নিয়মে সময় নষ্ট, প্রতিবাদ করলেই হেনস্তা
ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ, আলিফ কর্তৃপক্ষ একটি অদ্ভুত ও সময়সাপেক্ষ বাস চলাচল ব্যবস্থা চালু রেখেছে। এই ব্যবস্থায়, একটি বাস একটি নির্দিষ্ট স্টপেজ থেকে ছেড়ে পরবর্তী স্টপেজে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে। পেছনের স্টপেজ থেকে আরেকটি বাস এসে না পৌঁছানো পর্যন্ত সামনের বাসটি ছাড়ে না। এর ফলে ১০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে ২০ মিনিটেরও বেশি সময় লাগছে, যা যাত্রীদের মূল্যবান সময় ও কর্মঘণ্টা নষ্ট করছে।
সমস্যার এখানেই শেষ নয়। নির্দিষ্ট কিছু স্টপেজে যাত্রীদের কাছ থেকে ৫ টাকা করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। আর এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে বাসের চালক ও সহকারীদের হাতে হতে হয় চূড়ান্ত হেনস্তার শিকার।
ভুক্তভোগীদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা
-
আবু জুবাইর নামে একজন নিয়মিত যাত্রী বলেন, “অযথা সময় নষ্ট না করতে অনুরোধ করলে চালক ও হেলপার গালাগালি করে বলে, ‘বাস থেকে নেমে যান, দেখি আলিফ ছাড়া চলেন কেমনে’।”
-
ওসমান নামের আরেক যাত্রী বলেন, “প্রতিবাদ করায় ড্রাইভার তার হেলপারকে উদ্দেশ্য করে বলে, ‘একে চিনে রাখ, কাল থেকে একে উঠাবি না’।”
-
সাদ নামে এক যাত্রী জানান, “যখন আমরা কয়েকজন যাত্রী মিলে প্রতিবাদ করি, তখন আশুলিয়া স্টপেজে থাকা চেকার ফোন করে লোক ডেকে এনে আমাদের সঙ্গে মারমুখী আচরন ও হেনস্তা করে। তবে যাত্রীদের সম্মিলিত প্রতিবাদে তারা শেষ পর্যন্ত বাস থেকে নেমে যেতে বাধ্য হয়।”
-
নারী যাত্রীরাও রেহাই পাচ্ছেন না। কামরুন নাহার জানান, তিনি প্রতিবাদ করলে চালক তাকে বলেন, “পঞ্চাশ-ষাট টাকা দিয়ে তো বাস কিনে নেন নাই। বেশি তাড়া থাকলে প্রাইভেট কারে যান।”
-
অফিসের সময় নষ্ট হওয়ার কথা বললেও মেলে উপহাস। রনি নামের এক যাত্রী বলেন, “অফিসের সময় দেরি হয়ে যাচ্ছে বলায় চালক উত্তর দেন, ‘কেন, বাসা থেকে এক-দুই ঘণ্টা আগে বের হতে পারেন না?'”

যাত্রীদের দাবি
সাধারণ যাত্রীরা এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি চান। তাদের দাবি, আলিফের এই ‘অপেক্ষা ও চলো’ নীতি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং প্রতিটি বাসকে একটি নির্দিষ্ট সময়সূচী মেনে চলতে হবে এবং অযথা সময় নষ্ট করা যাবে না।
এছাড়াও, তারা বাস মালিক সমিতি এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর কাছে এই রুটে প্রতিযোগিতা তৈরির লক্ষ্যে নতুন বাস কোম্পানির অনুমোদন দেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আলিফ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী যাত্রীরা এই অবর্ণনীয় দুর্ভোগের দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মোঃ আশফুল আলম | উপ-সম্পাদক










