জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে যখন রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি তুঙ্গে, তখন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের ১৯২৩ সালের ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট’ বা সরকারি গোপনীয়তা আইনের কঠোর প্রয়োগের পথে হাঁটছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে তথ্য ফাঁসে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই অবস্থানকে ‘পুরোনো সংস্কৃতিতে ফিরে যাওয়া’ হিসেবে দেখছেন খোদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই। তারা বলছেন, সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারও শেষ পর্যন্ত ১৯২৩ সালের সেই ‘কালাকানুনেই’ আটকে থাকতে চাইছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখা থেকে জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর তথ্য পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ায় জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এটি অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট-১৯২৩ এর পরিপন্থি। ভবিষ্যতে এমন তথ্য ফাঁস বন্ধে নজরদারি বাড়ানো এবং জড়িতদের সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আধুনিক তথ্য অধিকার আইনের যুগে ১০০ বছরের পুরোনো আইন দিয়ে শাসন করার নজির অতীতেও দেখা যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, “তথ্য কার দপ্তর থেকে ফাঁস হয়, তা নিশ্চিত করা কঠিন। এই আদেশের ফলে সবার মধ্যে একটি ‘ভয়ের সংস্কৃতি’ তৈরি করা হয়েছে, যা আমাদের পেশাদার কাজে অপমানজনক।”
আশ্চর্যের বিষয় হলো, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন যেখানে দুর্নীতি কমাতে ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট’ সংশোধন করে তথ্য উন্মুক্ত করার সুপারিশ করেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশ ঠিক তার উল্টো। সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত বাকস্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার সঙ্গেও এই আদেশ সরাসরি সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আইন বিশেষজ্ঞ ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, “ব্রিটিশরা তাদের শাসন টিকিয়ে রাখতে এই গোপনীয়তা বজায় রাখত। কিন্তু গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে তথ্য জনগণের অধিকার। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এমন নির্দেশ মুক্ত সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করবে।”
–লামিয়া আক্তার










