ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬২

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও অর্থনৈতিক দুরবস্থা থেকে শুরু হওয়া ইরানজুড়ে গণবিক্ষোভ এখন চরম সহিংস রূপ নিয়েছে। গত ১৩ দিনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬২ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। এই পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘বড় বিপদে’র হুঁশিয়ারি দিয়ে পুনরায় সামরিক হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ (HRANA) জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৪৮ জন সাধারণ বিক্ষোভকারী এবং ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। তবে নরওয়েভিত্তিক সংস্থা আইএইচআরএনজিও নিহতের সংখ্যা আরও বেশি দাবি করে জানিয়েছে, অন্তত ৫১ জন বিক্ষোভকারী প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯টি শিশু রয়েছে। এছাড়া দেশজুড়ে অন্তত ২ হাজার ২৭৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিবিসি ফারসি নিশ্চিত করেছে যে, নিহতের তালিকায় থাকা অন্তত ২২ জনের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। তবে ইরানে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইরান সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে ইরানের যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন। রয়টার্স ও এএফপি জানিয়েছে, ইন্টারনেট না থাকায় এবং বিদেশ থেকে ফোনকল না ঢোকায় মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাই করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তা সত্ত্বেও জানা গেছে, ৩১টি প্রদেশের শতাধিক শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে শিক্ষার্থী ও নারীদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবন, মেট্রো স্টেশন এবং ব্যাংকে অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গেছে।

গত সপ্তাহে ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নেওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ইরানের দিকে নজর দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “ইরান বড় বিপদে আছে। মানুষ এমন সব শহর দখল করে নিচ্ছে যা কয়েক সপ্তাহ আগেও কেউ ভাবেনি।” তিনি সতর্ক করে বলেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন অব্যাহত থাকলে তিনি দেশটিতে সামরিক হামলার নির্দেশ দিতে পারেন।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এই বিক্ষোভকে ‘বিদেশি ষড়যন্ত্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পের হয়ে কাজ করছেন এবং তারা দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায়। সরকারের সমর্থনেও দেশটির বিভিন্ন স্থানে পাল্টা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের বাজারগুলোতে রিয়ালের রেকর্ড দরপতন ও নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার প্রতিবাদে এই আন্দোলনের সূত্রপাত। তবে গত কয়েক দিনে স্লোগানের ভাষা বদলে গেছে। এখন বিক্ষোভকারীরা সরাসরি ‘সরকার পতন’ ও ‘খামেনির মৃত্যু’ চেয়ে স্লোগান দিচ্ছে।

ইরানের বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইন্টারনেট বন্ধ ও সামরিক হুমকির এই দ্বিমুখী টানাপোড়েন ইরানকে এক দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

-এম. এইচ. মামুন