‘ভেনেজুয়েলার সাথে নয়, কাজ করবেন আমাদের সঙ্গে’

ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমানোর এক উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে শেভরন, এক্সনমোবিল ও কনোকোফিলিপসসহ ১৭টি শীর্ষ তেল কোম্পানির নির্বাহীদের সাথে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তিনি দেশটিতে দ্রুত ১০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান।

নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পকে সরাসরি মার্কিন তত্ত্বাবধানে নিয়ে আসার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, এই বৈঠক ছিল তারই অংশ।

বৈঠকে ট্রাম্প তেল ব্যবসায়ীদের দ্বিধাদ্বন্দ্ব ঝেড়ে ফেলে ভেনেজুয়েলায় ফেরার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আপনারা সম্পূর্ণ নিরাপদ। আপনারা সরাসরি আমাদের (যুক্তরাষ্ট্র সরকারের) সাথে কাজ করবেন, কোনোভাবেই ভেনেজুয়েলার সাথে নয়। আমাদের বড় তেল কোম্পানিগুলো তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে অন্তত ১০ হাজার কোটি ডলার ব্যয় করবে, যা দিয়ে দেশটির জরাজীর্ণ অবকাঠামো সংস্কার করা হবে।”

ট্রাম্প আরও স্পষ্ট করেন যে, এই বিনিয়োগে মার্কিন সরকারের কোনো অর্থ খরচ হবে না, তবে কোম্পানিগুলোকে প্রয়োজনীয় ‘সুরক্ষা ও নিরাপত্তা’ দেবে হোয়াইট হাউস।

হোয়াইট হাউসে যখন এই বৈঠক চলছিল, ঠিক তখনই খবর আসে যে ক্যারিবিয়ান সাগরে ভেনেজুয়েলার তেলের সঙ্গে যুক্ত আরও একটি ট্যাঙ্কার (‘ওলিনা’) জব্দ করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। গত এক মাসে এটি ছিল পঞ্চম ট্যাঙ্কার জব্দ করার ঘটনা। ডেনমার্কের গ্রিনল্যান্ড বা আটলান্টিকে রুশ ট্যাঙ্কার জব্দের ঘটনার মতো এটিও ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এর মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি ও উৎপাদনব্যবস্থা পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চাইছে ওয়াশিংটন।

বৈঠকে উপস্থিত তেল কোম্পানিগুলোর নির্বাহীরা ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাকে স্বাগত জানালেও কেউ কেউ কিছুটা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। বিশেষ করে ২০০৭ সালে হুগো চাভেজের সময় জাতীয়করণের মাধ্যমে যারা সম্পদ হারিয়েছিলেন (যেমন এক্সনমোবিল ও কনোকোফিলিপস), তারা বিনিয়োগের আগে সুনির্দিষ্ট আইনি ও আর্থিক গ্যারান্টি চাইছেন। তবে শেভরনের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তারা বর্তমানে ভেনেজুয়েলায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং উৎপাদন সক্ষমতা দ্রুত দ্বিগুণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য হলো ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন প্রতিদিন ১ মিলিয়ন ব্যারেলের নিচ থেকে বহুগুণ বাড়িয়ে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৫০ ডলারে নামিয়ে আনা। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “ভেনেজুয়েলা খুব সফল হতে যাচ্ছে এবং আমেরিকার মানুষ এর বড় সুবিধাভোগী হবে।”

-এম. এইচ. মামুন