যুদ্ধ, দাম বৃদ্ধি এবং দুর্ভোগ: রাশিয়ায় নাগরিকদের চার বছরের সংগ্রাম

রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ চার বছর পার হওয়ার পর সাধারণ মানুষ ও শহরের পরিবেশে যুদ্ধের প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। শহর ইয়েলেটস–এ ব্যানার ও পোস্টারে যুবকদের সৈনিক হিসেবে যোগ দেওয়ার জন্য নগদ পুরস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। এক পোস্টারে বলা হয়েছে, যারা যুক্ত হবেন তাদের এককালীন প্রায় ১৫,০০০ পাউন্ড সমপরিমাণ টাকা দেওয়া হবে। খবর বিবিসির।

শহরের এক পার্শ্ববর্তী অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে বড় একটি মুরালে পাঁচজন রাশিয়ান সৈনিকের মুখ দেখা যায়, যারা ইউক্রেনে লড়াই করার সময় নিহত হয়েছে। “রাশিয়ার নায়কদের মহিমা” লেখা এই মুরাল স্থানীয় মানুষের মনে যুদ্ধের তীব্র প্রভাব স্মরণ করিয়ে দেয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা যুদ্ধের মানসিক ও আর্থিক প্রভাব অনুভব করছেন। ইরিনা, একজন টিকেট কালেক্টর, বলেন, “গ্যাস ও বিদ্যুতের বিল আমাদের শ্বাসরুদ্ধ করছে। দাম খুব বেড়েছে। বাঁচা কঠিন হয়ে গেছে।” তবুও তিনি সৈনিকদের জন্য সাহায্যের প্যাকেজ তৈরি করছেন।

ইয়েলেটস শহরের বাসিন্দারা প্রতিরক্ষা আশ্রয়কেন্দ্রেও আশ্রয় নিচ্ছেন। “সাইরেন প্রায় প্রতি রাতে বাজে। আমরা জানালা ছাড়া করিডোরে থাকি,” বলেন ইরিনা।

রাশিয়ার অর্থনীতি যুদ্ধের কারণে চাপের মধ্যে। বাজেট ঘাটতি ও অর্থনীতির ধীরগতি মোকাবেলায় সরকার ভ্যাট ২০% থেকে ২২% করেছে। ক্ষুদ্র ব্যবসা ও দোকানদাররা ঊর্ধ্বমুখী দাম এবং উচ্চ ইউটিলিটি বিলের কারণে হিমশিম খাচ্ছেন। অ্যানাস্তাসিয়া বায়কোভা, এক বেকারির মালিক বলেন, “যদি আমাদের দোকান বন্ধ হয়ে যায়, শহর কেবল ধূসর হবে।”

বয়স্ক নাগরিকরা যেমন ইভান পাভলোভিচ বলছেন, “যুদ্ধ ভালো, কিন্তু দাম বাড়ছে। পেনশন বাড়ছে, কিন্তু দাম আরও বেশি। আমার লাভ কিছু নেই।”

চার বছর ধরে চলা এই ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ রাশিয়ার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলেছে। জনগণ আশা করছে শান্তি এবং স্থিতিশীলতার দিন ফিরে আসবে।

-বেলাল