মুছাব্বির হত্যা: ‘প্রাইম শুটার’সহ গ্রেপ্তার ৩

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় প্রধান শুটারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গাজীপুর ও মানিকগঞ্জে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—হত্যাকাণ্ডের প্রধান শুটার জিনাত, মূল পরিকল্পনাকারী বিল্লাল এবং তাদের এক সহযোগী। ডিবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মুছাব্বিরকে হত্যার ২৫ মিনিট আগে মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দুই সন্দেহভাজন। কারওয়ান বাজারের স্টার হোটেলের পাশের গলিতে তাদের জন্য আগে থেকেই এক সহযোগী অপেক্ষমাণ ছিল। মোটরসাইকেলটি সেই সহযোগীর কাছে রেখে মূল দুই শুটার গলির ভেতরে অন্ধকার স্থানে ওত পেতে থাকে।

রাত সোয়া ৮টার দিকে মুছাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ার পর কিলিং মিশন নিশ্চিত করে তারা পালিয়ে যায়। এর আগে গলির মুখে দাঁড়িয়ে থাকা সহযোগী মোটরসাইকেল নিয়ে ফার্মগেটের দিকে চলে যায়। ফুটেজে অন্তত চারজনের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে একজন খুব স্বাভাবিকভাবে হাঁটাহাঁটি করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিল।

তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ক্যশৈন্যু মারমা জানান, সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত হওয়া চারজনের ছবি অত্যন্ত স্পষ্ট। তাদের নাম-পরিচয় এবং কেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আধিপত্য বিস্তার বা রাজনৈতিক কোনো দ্বন্দ্ব ছিল কি না—সব বিষয় মাথায় রেখেই তদন্ত চলছে।

নিহত মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম গত বৃহস্পতিবার তেজগাঁও থানায় অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। তিনি জানিয়েছেন, মুছাব্বির আগে থেকেই প্রাণনাশের হুমকিতে ছিলেন। মুছাব্বির তাকে বলেছিলেন, “আমার অনেক শত্রু হয়ে গেছে, যে কোনো সময় খুন হতে পারি।” তবে কাদের থেকে হুমকি আসছিল, তা তিনি স্পষ্ট করে বলেননি।

এদিকে মুছাব্বির হত্যার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গতকাল তেজগাঁও থানার সামনে বিক্ষোভ করেছেন নিহতের স্বজন ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা। পরে তারা কারওয়ান বাজার এলাকায় মিছিল করেন। এই হামলায় গুলিবিদ্ধ ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সুফিয়ান বেপারি ওরফে মাসুদ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া সরাসরি চারজন ছাড়াও নেপথ্যে আরও কার ইন্ধন আছে, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য- গত বুধবার রাত সোয়া ৮টার দিকে কারওয়ান বাজারে স্টার হোটেলের পাশের একটি গলিতে মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ সময় তার সাথে থাকা কারওয়ান বাজার ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সুফিয়ান বেপারি ওরফে মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন।

-এম. এইচ. মামুন