
শিল্প এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেছেন, ছাতক সিমেন্ট কারখানার উৎপাদন ব্যবস্থা আধুনিকায়নের মাধ্যমে দ্রুত উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হবে। তিনি জানান, কারখানার প্রচলিত ওয়েট প্রসেস পদ্ধতি পরিবর্তন করে ড্রাই প্রসেসে রূপান্তর করা হলে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে এবং কার্যক্রম গতি পাবে।
শুক্রবার সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলায় ছাতক সিমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিল্প উপদেষ্টা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান যে দিকনির্দেশনা দিয়েছে, সেই পথ অনুসরণ করেই ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকার শিল্পখাতের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
কারখানা পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) চেয়ারম্যান মো. ফজলুর রহমান, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী কাজী গোলাম মোস্তফা এবং ছাতক সিমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুর রহমান।
ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তসংলগ্ন সুরমা নদীর তীরে অবস্থিত ছাতক সিমেন্ট কারখানাটি ১৯৩৭ সালে ‘আসাম বেঙ্গল সিমেন্ট কোম্পানি’ নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে এটি ছিল একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। ১৯৬৫ সালের পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের সময় তৎকালীন মালিক কারখানাটি পরিত্যাগ করলে ১৯৬৬ সালে এটি রাষ্ট্রীয় মালিকানায় আসে। পরবর্তীতে ১৯৮২ সালে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) এর দায়িত্ব নেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২০ সালে ভারত সরকার চুনাপাথর সরবরাহকারী সংস্থা কেএলএমসির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে ছাতক সিমেন্ট কারখানায় কাঁচামালের সংকট দেখা দেয়। এর ফলে ২০২১ সালের মে মাসে কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। তখন থেকে পুরোনো ও নতুন—উভয় ইউনিটেই উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
তবে কারখানার উৎপাদন পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে ওয়েট প্রসেস থেকে ড্রাই প্রসেসে রূপান্তরের একটি প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়, যা বাস্তবায়িত হলে কারখানাটি আবার উৎপাদনে ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
-আফরিনা সুলতানা









