‘হয়রানি থেকে বাঁচতে চাই’: মির্জাপুরে আওয়ামী লীগ নেতার পদত্যাগ, ফেসবুকে দিলেন ঘোষণা

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ‘হয়রানি থেকে বাঁচতে’ এবং ‘পারিবারিক কারণ’ দেখিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একটি ওয়ার্ড শাখার সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. আবু সাঈদ। গত ৭ জানুয়ারি তিনি গোড়াই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের (পূর্ব) সভাপতি ও সম্পাদক বরাবর তার স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্রটি পাঠান এবং পরে সেটি নিজের ফেসবুক আইডিতেও পোস্ট করেন, যা নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

আবু সাঈদ গোড়াই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের (পূর্ব) ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।

পদত্যাগপত্রে যা লিখেছেন
আবু সাঈদ তার পদত্যাগপত্রে লেখেন, “আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গোড়াই ইউনিয়ন (পূর্ব) ৫ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলাম। বর্তমানে পারিবারিক কারণে ওই পদে থেকে কোনো রকম রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। এই মর্মে আমি সুস্থ মস্তিষ্কে, স্বজ্ঞানে সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করিলাম।”

ভেতরের কথা: হয়রানি ও মামলার ভয়
পদত্যাগপত্রের আনুষ্ঠানিক কারণ ‘পারিবারিক’ হলেও এর পেছনের কারণ ভিন্ন বলে জানিয়েছেন আবু সাঈদ। এ ব্যাপারে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “নানা ধরনের হয়রানি থেকে বাঁচতেই আমি দল থেকে পদত্যাগ করেছি।”

কী ধরনের হয়রানি, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “নির্দিষ্ট করে বলে আর নতুন করে বিপদে পড়তে চাই না। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মির্জাপুরে যতগুলো মামলা হয়েছে, তার সবগুলোতে আমাকে আসামি করার ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। এই হয়রানি থেকে নিজেকে বাঁচাতে আমার ইতিমধ্যে অনেক অর্থ ব্যয় হয়েছে।”

ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা
অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা জানতে চাইলে আবু সাঈদ বলেন, “নিজেকে রক্ষা করাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে, আবার রাজনীতি! আপাতত রাজনীতি নিয়ে আর ভাবছি না।”

এই পদত্যাগের ঘটনাটি ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সৃষ্ট চাপ ও অস্থিরতার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।