ইসমাইল ইমন, চট্টগ্রাম
সিএমপির ডিবি (উত্তর) বিভাগ ও পাঁচলাইশ মডেল থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে আলোচিত ৩৫০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই মামলার মূল আসামিসহ ৬ জন গ্রেপ্তার, লুণ্ঠিত ২৯০ ভরি স্বর্ণ ও ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত ১টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
গত ০৪/০১/২০২৬ ইং তারিখ ভোর আনুমানিক ৫টার সময় জনৈক সবুজ দেবনাথ তার সঙ্গে আরও ০২ জনকে নিয়ে একটি সিএনজি যোগে কোতোয়ালি থানাধীন সাবেরিয়া এলাকা থেকে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন অক্সিজেনের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে আতুরের ডিপো এলাকায় পৌঁছালে ০২টি মোটর
সাইকেলে থাকা অজ্ঞাতনামা ০৪ জন ছিনতাইকারী তাদের পথরোধ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধর করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩৫টি স্বর্ণের বার, ব্যবহৃত ৩টি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় পাঁচলাইশ মডেল থানার মামলা নং-০১, তারিখ-০৫/০১/২০২৬, ধারা-৩৯৪, পেনাল কোড মামলা রুজু করা হয়। পাঁচলাইশ মডেল থানা ও ডিবি (উত্তর) বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস আভিযানিক দল গোপন সূত্র ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ০৮/০১/২০২৬ ইং তারিখ বিকাল আনুমানিক ১৫:৩০ টার সময় গাজীপুর জেলার কাশিমপুর থানাধীন মাধবপুর এলাকায় কাশিমপুর থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে মামলার মূল অভিযুক্ত ১। সুমন চন্দ্র দাস (৪২), ২। মো. মাসুদ রানা প্রকাশ বাইক বাবু (৩০) এবং ৩। রফিকুল ইসলাম প্রকাশ ইমন (২২)-কে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত ০১টি সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল উদ্ধার করেন।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ১নং আসামি সুমন চন্দ্র দাস স্বীকার করেন যে, তাঁর নেতৃত্বে পূর্বপরিকল্পিতভাবে উক্ত ছিনতাইয়ের ঘটনা সংঘটিত হয় এবং লুণ্ঠিত স্বর্ণের বারগুলো তাঁর স্ত্রী অর্থাৎ ৫নং আসামি পান্না রানী দাস দিপালী রানী দাশ (৩৮) অথবা তাঁর চাচাতো ভাই ৪নং আসামি রবি কুমার দাস (৪০)-এর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে একই দিন ০৮/০১/২০২৬ ইং তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ০৬:১০ টার সময় ডিএমপি’র মোহাম্মদপুর থানাধীন রায়ের বাজার এলাকা থেকে ৪নং আসামি রবি কুমার দাস (৪০)-কে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তার স্বীকারোক্তিমতে একই দিন রাত আনুমানিক ২২.৫০ ঘটিকায় সিএমপির হালিশহর থানাধীন বড়পুল এলাকা থেকে ৫নং আসামি পান্না রানী দাস দিপালী রানী দাশ (৩৮)-কে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়াও ১নং আসামি সুমন চন্দ্র দাসের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মামলার গোপন তথ্যদাতা হিসেবে ৬নং আসামি বিবেক বনিক (৪২)-কে ০৮/০১/২০২৬ ইং তারিখ রাত আনুমানিক ১১:৪৫ টায় কোতোয়ালী থানা এলাকা থেকে গ্রেফাতর করা হয়। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত ১নং, ৪নং ও ৫নং আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ছিনতাইকৃত ২৯টি স্বর্ণের বার প্রথমে ৫নং আসামি পান্না রানী দাসের হেফাজতে রাখা হয় এবং পরবর্তীতে তা ৪নং আসামি রবি কুমার দাসের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ৪নং আসামি স্বীকার করেন যে, তিনি লুণ্ঠিত স্বর্ণগুলো তাঁর বোন সাক্ষী প্রতিমা দাশের কাছে সরল বিশ্বাসে রেখে যান। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে ০৯/০১/২০২৬ ইং তারিখ ডিএমপির মোহাম্মদপুর থানাধীন বৈশাখী খেলার মাঠ সংলগ্ন সিরাজ মিয়ার বিল্ডিংয়ের ৫ম তলার একটি বাসা থেকে একটি Pure it Classic Germ Kill Kit নামীয় কাগজের বাক্স উদ্ধার করা হয়। উক্ত বাক্সের ভেতর মৌজায় মোড়ানো ও হলুদ রঙের কস্টেপ দ্বারা মোড়ানো অবস্থায় ২৯টি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়, যার প্রতিটি বারের ওপর ইংরেজিতে “sam 10 TOLAS GOLD 999.0” লেখা সম্বলিত বারগুলো উদ্ধার করেন। এঘটনায় সন্দীগ্ধ আরও আসামিদের গ্রেফতার ও আলামত উদ্ধারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।










