নারায়ণগঞ্জ–৩ ও ৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীদের মনোনয়নপত্র যাচাইয়ে প্রস্তুত স্বতন্ত্র প্রার্থী
সবে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ হয়েছে। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা ও আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর এখনো সময় বাকি। তবে তার আগেই প্রতিদ্বন্দ্বীদের ঠেকাতে মাঠে নেমেছেন নারায়ণগঞ্জ–৩ ও নারায়ণগঞ্জ–৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী, সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন।
নির্বাচনী দৌড়ে এগিয়ে থাকতে প্রচারণার আগেই সম্ভাব্য কৌশল নির্ধারণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন তিনি। জানা গেছে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রে কোনো গলদ বা তথ্যগত ত্রুটি রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন গিয়াস উদ্দিন। এরই মধ্যে তিনি তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের মনোনয়নপত্রের নকল সংগ্রহ করেছেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জানুয়ারি ৫৬টি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৪০ জন প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন নারায়ণগঞ্জ–৩ ও নারায়ণগঞ্জ–৪ দুই আসন থেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য হলেও এবার তিনি দলীয় মনোনয়ন ছাড়াই দুই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, গিয়াস উদ্দিন এখন পর্যন্ত মোট চারটি মনোনয়নপত্রের নকল সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে দুটি তার নিজের এবং বাকি দুটি তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের। প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেন—
নারায়ণগঞ্জ–৪ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী
নারায়ণগঞ্জ–৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলমগীর জানান, কোনো প্রার্থীর জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র, হলফনামা কিংবা সংযুক্ত তথ্যে ঘাটতি বা অসঙ্গতি থাকলে সে বিষয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানাতে পারেন। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বা হলফনামার নকল সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছে— প্রচারণা শুরুর আগেই মনোনয়নপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বীদের চাপে রাখার এই কৌশল নির্বাচনী মাঠে প্রভাব ফেলতে পারে। শেষ পর্যন্ত গিয়াস উদ্দিন তার অভিযোগে কতটা সফল হন, তা নির্ভর করবে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর।
মাহমুদ কাওসার, নারায়ণগঞ্জ










