কলকতায় অবস্থান করছে হাদি হত্যার পরিকল্পনাকারী: গোয়েন্দা পুলিশ

ছবিতে যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি(বামে) ও ওসমান হাদি (ডানে)

ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে মিরপুরের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পির নাম উঠে এসেছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দাবি, বাপ্পির সরাসরি নির্দেশে ও পরিকল্পনায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তবে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, গ্রেফতার এড়াতে বাপ্পি বর্তমানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় আত্মগোপন করে আছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কলকাতার রাজারহাট এলাকার ওয়েস্ট বেড়াবেড়ি মেঠোপাড়া সংলগ্ন ‘ঝনঝন গলি’র একটি চারতলা ভবনের নিচতলায় আত্মগোপন করে আছেন বাপ্পি। সেখানে তার সঙ্গে আরও ৪-৫ জন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মী রয়েছেন, যাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দেশে একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, তারা সেখানে নিজেদের ‘বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তা’ পরিচয় দিয়ে প্রায় এক বছর ধরে বসবাস করছেন।

সরেজমিনে ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে যুবলীগ নেতা মফিকুর রহমান উজ্জল ও সাজিবুল ইসলামের দেখা মিললেও তারা দাবি করেন, বাপ্পি এই মুহূর্তে সেখানে নেই। তবে ডিবি সূত্রের দাবি, হাদি হত্যার প্রধান শ্যুটার ফয়সাল করিম ও সহযোগী আলমগীর হোসেনও বর্তমানে ভারতেই অবস্থান করছেন।

আওয়ামী লীগের একটি বিশ্বস্ত সূত্র দাবি করেছে, বাপ্পি ইতোমধ্যেই ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। তবে স্থানীয় নারায়ণপুর থানা কর্তৃপক্ষ এই তথ্য অস্বীকার করেছে। এমনকি বিধাননগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় থেকেও জানানো হয়েছে, হাদি হত্যার আসামিরা কলকাতায় লুকিয়ে আছেন এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য তাদের কাছে নেই।

ভারতের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় এ নিয়ে দেশটির পুলিশ কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমের সামনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ডিবি পুলিশের তথ্যমতে, হাদি হত্যাকাণ্ডের পুরো ছক সাজানো হয়েছিল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে। বাপ্পি ভারতে বসে শ্যুটারদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। আসামিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ চলছে।

এদিকে, ভারতের পক্ষ থেকে এখনো আসামিদের অবস্থানের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না আসায় বিষয়টি নিয়ে এক ধরনের কূটনৈতিক জটিলতা তৈরি হয়েছে।

-এম. এইচ. মামুন