বিএনপি সরকার গঠনের আগ পর্যন্ত ‘ভাত না খাওয়ার’ প্রতিজ্ঞা করা নিজাম আর নেই

বিএনপি সরকার গঠনের আগপর্যন্ত ‘ভাত না খাওয়ার’ প্রতিজ্ঞা করার দীর্ঘ ১১ বছরের কঠোর ‘প্রতিজ্ঞা’ বুকে নিয়েই চলে গেলেন ঝিনাইদহের মহেশপুরের ত্যাগী বিএনপি কর্মী নিজাম উদ্দিন (৪৫)। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ভোররাত ৩টার দিকে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৩১ মে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নিজ গ্রামে দোয়া ও তবারক বিতরণের আয়োজন করেছিলেন নিজাম উদ্দিনসহ স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা সেই অনুষ্ঠানে বাধা দেয় এবং রান্না করা খাবারের হাঁড়ি রাস্তায় ফেলে দেয়। নিজ আদর্শের প্রতি এই অবমাননা মেনে নিতে পারেননি নিজাম উদ্দিন। সেদিনই তিনি শপথ করেন—দেশে বিএনপি পুনরায় সরকার গঠন না করা পর্যন্ত তিনি ভাত গ্রহণ করবেন না।

সেই থেকে দীর্ঘ ১১ বছর ৭ মাস ১০ দিন নিজাম উদ্দিন ভাতের পরিবর্তে কেবল রুটি, কলা, চিঁড়া ও বিভিন্ন শুকনো খাবার খেয়ে জীবনধারণ করেছেন। তার পরিবার জানায়, দীর্ঘ সময় অপুষ্টি ও অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার তাকে প্রতিজ্ঞা ভাঙার অনুরোধ করা হলেও তিনি তার সিদ্ধান্তে অবিচল ছিলেন। তার সাফ কথা ছিল, “প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করলে নিজের বিবেকের কাছে ছোট হয়ে যাব।”

২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে নিজাম উদ্দিনের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটলে বিষয়টি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হয়। দলীয় প্রধানের নির্দেশনায় তাকে দ্রুত ফরিদপুর ও পরবর্তীতে ঢাকার উন্নত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করে বিএনপি। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হয়ে তিনি বাড়ি ফিরলেও শারীরিক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ভোররাত ৩টার দিকে ভোরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন বিএনপি’র এই একনিষ্ঠ কর্মী।

নিজাম উদ্দিনের মৃত্যুতে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মহেশপুর উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, নিজাম উদ্দিনের এই ত্যাগ দলের ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তার এই দীর্ঘ সংগ্রামের কথা ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। নিজাম উদ্দিনের জানাজার নামাজ শেষে আজ শুক্রবার বিকেলে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে।

-এম. এইচ. মামুন