ম্যাচ চলাকালীন টিভি ফুটেজে ধরা পড়ে এক বিতর্কিত দৃশ্য। টাচলাইনে দাঁড়িয়ে সিমিওনে বারবার ভিনিসিয়ুসকে উদ্দেশ্য করে বলছিলেন যে, রিয়াল প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ তাকে খুব শীঘ্রই ‘ছাঁটাই করতে যাচ্ছেন’। শুধু তাই নয়, ভিনিসিয়ুস যখন মাঠ থেকে বদলি হয়ে উঠে যাচ্ছিলেন, তখন দর্শকদের দুয়োধ্বনির দিকে ইঙ্গিত করে উসকানিমূলক অঙ্গভঙ্গি করেন সিমিওনে। এই ঘটনায় রেফারি সিমিওনে ও ভিনিসিয়ুস দুজনকেই হলুদ কার্ড দেখান।
মাঠে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সময়টা একেবারেই ভালো যাচ্ছে না। গত বছরের ৪ অক্টোবর ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে জোড়া গোলের পর টানা ১৬ ম্যাচ গোলের দেখা নেই এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের। ফর্মের এমন পড়তি দশায় যখন রিয়াল মাদ্রিদে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে গুঞ্জন তুঙ্গে, ঠিক তখনই কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিলেন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ কোচ ডিয়েগো সিমিওনে। মাদ্রিদ ডার্বিতে রিয়ালের জয় ছাপিয়ে এখন আলোচনায় ভিনিসিয়ুস ও সিমিওনের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়।
প্রতিপক্ষ কোচের এমন আচরণ মেনে নিতে পারেননি রিয়াল বস জাবি আলোনসো। ম্যাচ শেষে নিজের বিরক্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি এটা মোটেও পছন্দ করিনি। আমার মনে হয়, এ ধরনের আচরণ একজন পেশাদার সহকর্মীর প্রতি সম্মানের সীমা লঙ্ঘন করে।” সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও যোগ করেন, “তিনি (সিমিওনে) যা বলেছেন তা শোনার পর আমার আরও খারাপ লেগেছে। এটি একজন ভালো ক্রীড়াবিদের উদাহরণ হতে পারে না। সবকিছুর একটা সীমা থাকা উচিত।”
ঘটনা অস্বীকার না করলেও বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি সিমিওনে। তিনি কেবল বলেন, “মাঠের কথা মাঠেই থাকা উচিত। আমি রিয়াল মাদ্রিদের সব খেলোয়াড়কে শ্রদ্ধা করি।” অন্যদিকে, রিয়াল তারকা ফেদে ভালভার্দে বিষয়টিকে ডার্বির চিরাচরিত উত্তেজনার অংশ হিসেবেই দেখছেন। তার মতে, “ফুটবলার ও কোচদের মধ্যে কিছু নিজস্ব নিয়ম বা ‘কোড’ থাকে। ডার্বি ম্যাচে এমন উত্তেজনা থাকবেই, তবে তা মাঠের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা ভালো।”
টানা গোলখরায় থাকা ভিনিসিয়ুসের জন্য এই ঘটনা মানসিকভাবে বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ক্লাব প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজকে জড়িয়ে সিমিওনের এই ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ ব্রাজিলিয়ান তারকার রিয়াল ক্যারিয়ারে কোনো প্রভাব ফেলে কি না।
-এম. এইচ. মামুন










