রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দুর্বৃত্তদের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব আজিজুর রহমান মুসাব্বির। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে স্টার কাবাবের পেছনের গলিতে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। সন্ত্রাসীদের ছোড়া ৫ রাউন্ড গুলিতে মুসাব্বির নিহত এবং তেজগাঁও থানা ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান গুরুতর আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, রাতে মুসাব্বির, আবু সুফিয়ান ও মাসুদসহ কয়েকজন স্টার কাবাবের পেছনের গলিতে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন দুষ্কৃতকারী মুসাব্বিরকে লক্ষ্য করে ৫ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুসাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত আবু সুফিয়ানের পেটের বাম পাশে গুলি লেগেছে। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নিহত মুসাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “সন্ধ্যায় শেষ কথা হয়েছিল ওর সাথে। ও বললো তুমি একটা কফি বানিয়ে দাও, আমি নামাজ পড়ে বের হবো। ওটাই শেষ কথা ছিল।”
নিহত মুসাব্বির তিন সন্তানের জনক। গত ২০ বছর ধরে তিনি পানির ব্যবসা করতেন। রাজনৈতিক ব্যস্ততা বাড়ায় লোক দিয়ে ব্যবসা চালাতেন। ব্যবসার কারণে কোনো শত্রু ছিল কি না, তা জানেন না তার স্ত্রী। সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে সুরাইয়া বেগম বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা হোক। সুষ্ঠু বিচার না হলে আমার মতো আরও অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাবে।”
এ ঘটনায় তেজগাঁও বিভাগের এডিসি ফজলুল করিম জানান, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মুসাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছে এবং তিনি নিহত হয়েছেন। হামলাকারীদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে।
মুসাব্বিরের মৃত্যুতে গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল। এক বিবৃতিতে তারা এই হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত বলে দাবি করেছে এবং অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতারের আহ্বান জানিয়েছে।
-এম. এইচ. মামুন










