বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনীতির অন্যতম আলোচিত মুখ ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সম্প্রতি এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে দলের সিদ্ধান্ত, জোটের রাজনীতি এবং নিজের বহিষ্কারাদেশ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত এই নেত্রী দাবি করেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু এবং তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের অনুপস্থিতিতে দলের ভেতরে অনেক সমীকরণ বদলে গেছে।
রুমিন ফারহানা অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আজকে বাংলাদেশে যে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের সূচনা হতে যাচ্ছে, তার পেছনে বেগম খালেদা জিয়ার জীবনের আত্মত্যাগ অনস্বীকার্য।” তিনি স্মরণ করেন যে, বেগম জিয়াই তাঁকে রাজনীতিতে এনেছিলেন এবং তাঁর জীবদ্দশায় রুমিনের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রুমিনের ভাষায়, “ম্যাডাম জীবিত থাকলে অনেক কিছুই অন্যরকম হতো।” তাঁর এই মন্তব্য দলের বর্তমান হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে পরোক্ষ এক ধরণের অসন্তোষের ইঙ্গিত দেয়।
নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ২০১৭ সাল থেকে তিনি দলীয় নির্দেশনায় নিজের নির্বাচনী এলাকায় কাজ করছেন। বিশেষ করে উকিল আব্দুল সাত্তারের দলত্যাগের পর দল থেকে তাঁকে ওই আসনে কাজ করার সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের ঠিক আগে জোটের সমীকরণে আসনটি অন্য দলকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তিনি বিশ্লেষণ করে দেখান যে, ২০০১ সালের পর থেকে ওই এলাকার মানুষ ধানের শীষের প্রার্থী পায়নি। এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল যেন এবার অন্তত ধানের শীষের প্রার্থী দেওয়া হয়। জোটের কারণে মানুষের সেই আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ থেকে যাওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেন।
বেগম খালেদা জিয়ার দাফনের আগেই রুমিন ফারহানাসহ ৯ জন নেতাকে বহিষ্কারের বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, “বর্তমান সময়ে মানুষকে আর অন্ধকারে রাখা সম্ভব নয়। কে দুঃসময়ে পাশে থাকে আর কে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখে, তা জনগণ এখন স্পষ্ট বোঝে।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, নির্বাচনে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তটি তাঁর একার ছিল না। এলাকার ১৯টি ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের মতামত এবং ৮ থেকে ৯টি পেশাদার জরিপ প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করেই তিনি নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন। ‘হাঁস’ প্রতীক নিয়ে তাঁর এই লড়াই আসলে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নয়, বরং এলাকার মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ বলে তিনি দাবি করেন।
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে রুমিন ফারহানা জানান, এখন পর্যন্ত বড় কোনো বিশৃঙ্খলা নেই। তবে ২১ তারিখ প্রতীক বরাদ্দ এবং ২২ তারিখ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হলে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে। নিজের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী এই নেত্রী মনে করেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে টকশো, সংসদ ও মাঠে-ঘাটে তিনি যেভাবে মানুষের পক্ষে কথা বলেছেন, তার প্রতিফলন ব্যালট বাক্সে দেখা যাবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রুমিন ফারহানার এই অবস্থান বিএনপির দীর্ঘদিনের ‘জোট রাজনীতি’ এবং ‘অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা’র সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে দলের নির্দেশ অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়াকে ‘বিদ্রোহ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে রুমিন ফারহানা প্রমাণ করতে চাইছেন যে, তৃণমূলের জনসমর্থন থাকলে দলীয় প্রতীকের বাইরেও জয় সম্ভব। বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়ার নাম ব্যবহার করে তিনি দলের একনিষ্ঠ সমর্থকদের আবেগ নিজের পক্ষে টানার চেষ্টা করছেন।
-এম. এইচ. মামুন










