শ্রমিক অধিকার রক্ষায় ‘জাতীয় স্থায়ী শ্রম কমিশন’ গঠনের আহ্বান

ছবি: সমকাল
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে শ্রমিকদের মানবাধিকার রক্ষা, ন্যায্য মজুরি এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে ‘শ্রমিক অধিকার অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্স’। গত বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দেশের সব শ্রমিকের সুরক্ষায় ১৫ দফা সুপারিশ তুলে ধরে এ প্ল্যাটফর্মটি।
জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন, শ্রমিক অধিকার সংগঠন এবং বিভিন্ন জোটের সমন্বয়ে গঠিত এই অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে সুপারিশগুলো উপস্থাপন করেন সদস্য সচিব ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ।
১৫ দফা সুপারিশের মূল বিষয়গুলো
রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য অ্যালায়েন্সের প্রধান সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে: আইনি সুরক্ষা: শ্রম আইন সংশোধনের মাধ্যমে সব শ্রমিকের আইনি স্বীকৃতি ও নিবন্ধন নিশ্চিত করা। মজুরি ও সুযোগ-সুবিধা: ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ, শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা, আবাসন ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।
নিরাপদ কর্মপরিবেশ: কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা রোধ, ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বাড়ানো এবং প্রতিটি দুর্ঘটনার বিচার ও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা। নারী ও শিশু অধিকার: নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটি সবেতনে ছয় মাসে উন্নীত করা, কর্মক্ষেত্রে হয়রানি-সহিংসতা বন্ধ এবং শিশুশ্রম নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।
ট্রেড ইউনিয়ন ও স্থায়ী কমিশন: ইপিজেডসহ সব ক্ষেত্রে ট্রেড ইউনিয়ন ও দরকষাকষির অধিকার নিশ্চিত করা এবং শ্রমক্ষেত্রের সংকট মোকাবিলায় ‘জাতীয় স্থায়ী শ্রম কমিশন’ গঠন করা।
নেতৃবৃন্দের বক্তব্য
সংবাদ সম্মেলনে অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক ও বিলসের মহাসচিব নজরুল ইসলাম খান বলেন, “এই সুপারিশগুলো কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে হস্তান্তরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং আমরা এগুলো জাতির কাছে তুলে ধরব। দলগুলো যাতে শ্রমিকের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেয়, সেজন্য লবি ও অ্যাডভোকেসি অব্যাহত থাকবে।”
সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ আক্ষেপ করে বলেন, “সব আন্দোলনে শ্রমিকরা রক্ত দেন, তাদের অবদান সবচেয়ে বেশি। অথচ পরিবর্তনের পর যারা ক্ষমতায় আসেন, তারা শ্রমিকদের কথা ভুলে যান। আমরা চাই এবার রাজনৈতিক দলগুলো শ্রমিকদের অবদানের কথা মাথায় রেখে তাদের অধিকারকে অগ্রাধিকার দিক।”
অ্যালায়েন্সের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মেসবাহউদ্দীন আহমেদ শ্রমজীবী মানুষের শোভন কাজের অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক দায়বদ্ধতার বিষয়টিও ইশতেহারে রাখার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সমন্বয়কারী আব্দুল কাদের হাওলাদার, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

-এম এম