ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বংসাত্মক জবাবের হুমকি ইরান জেনারেলের

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রকাশ্য সমর্থনের পর ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। বুধবার (৭ জানুয়ারি) ইরানের সেনাপ্রধান জেনারেল আমির হাতামি বলেছেন, বিদেশি শক্তির কোনো হুমকি ইসলামি প্রজাতন্ত্র নীরবে মেনে নেবে না এবং শত্রুপক্ষ কোনো ভুল পদক্ষেপ নিলে তার জবাব হবে অত্যন্ত কঠোর।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, জেনারেল হাতামি বুধবার তেহরানে এক অনুষ্ঠানে বলেন, “ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক বক্তব্যকে আমরা সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করি। এই ধরনের উসকানি সহ্য করা হবে না।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, শত্রুরা যদি কোনো ভুল হিসাবনিকাশ করে, তবে ইরানের প্রতিক্রিয়া গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে হওয়া ১২ দিনের যুদ্ধের চেয়েও শক্তিশালী হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় নজিরবিহীন বিমান হামলা চালিয়েছিল, যার জবাবে ইরানও পাল্টা আক্রমণ চালায়। সেনাপ্রধান দাবি করেন, বর্তমানে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতি সেই সময়ের চেয়েও অনেক বেশি।

সম্প্রতি ইরানের ব্যবসায়ীরা তীব্র মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার বিক্ষোভকারীদের পক্ষে বার্তা দিয়েছেন। গত রবিবার এয়ার ফোর্সে ওয়ান-এ সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “আমরা পরিস্থিতি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছি। যদি তারা (ইরান সরকার) অতীতে যেভাবে মানুষ হত্যা করেছে তেমনটি আবার শুরু করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তারা খুব কঠিন আঘাত পাবে।” তিনি সামাজিক মাধ্যমে আরও লিখেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ‘লকড অ্যান্ড লোডেড’ (পুরো প্রস্তুত) হয়ে আছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু মন্ত্রিসভার বৈঠকে বলেন, “আমরা স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের জন্য লড়তে থাকা ইরানি জনগণের সংগ্রামের সাথে সংহতি প্রকাশ করছি।”

গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের বাজারগুলোতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন অন্তত ৭৮টি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৬ জন নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে অন্তত তিনজন শিশু রয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।

যদিও এই বিক্ষোভ ২০২২ সালের ‘মাহসা আমিনি’ পরবর্তী আন্দোলনের মতো ব্যাপক নয়, তবে ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং রিয়ালের দরপতনের ফলে সৃষ্ট এই অসন্তোষ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ধরনের উত্তাপ ছড়াচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগ এনে জাতিসংঘে চিঠি দিয়েছে।

-এম এইচ মামুন