সুনামগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে নির্বাচনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রার্থীর ব্যয়ের প্রধান উৎস প্রবাসী আয়। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইতালি, স্পেন, গ্রিস, মালয়েশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের পাঠানো অর্থেই নির্বাচনী খরচ চালাচ্ছেন তাঁরা। কোনো কোনো প্রার্থী নিজের প্রবাসী জীবনের সঞ্চয়ও নির্বাচনী ব্যয়ে ব্যবহার করছেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হলফনামার নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সুনামগঞ্জ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ৩৯ জন প্রার্থী নির্বাচনে ব্যয় করবেন ৮ কোটি ৪৩ লাখ ২৬ হাজার ৪২৭ টাকা। এর মধ্যে ৪ কোটি ৯ লাখ ৩ হাজার টাকা আসবে প্রবাসী স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে। বাকি অর্থ আসবে প্রার্থীদের নিজস্ব আয়, দেশে থাকা স্বজন ও কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের আর্থিক সহায়তা থেকে।
সুনামগঞ্জ-২ আসন
সুনামগঞ্জ-২ আসনে (দিরাই ও শাল্লা) খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. সাখাওয়াত হোসেন নির্বাচনী ব্যয় হিসেবে দেখিয়েছেন ৩৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে নিজের ব্যবসা থেকে ব্যয় করবেন মাত্র এক লাখ টাকা। বাকি ৩৫ লাখ টাকা আসবে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, স্পেন, গ্রিস ও মালয়েশিয়ায় থাকা ভাই, বোন, ভাগনি ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে।
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. নাছির চৌধুরী ব্যয় করবেন ২৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে নিজের কৃষি আয়ের ১০ লাখ টাকা ব্যয় করবেন তিনি। বাকি অর্থ দেবেন যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালিতে থাকা তাঁর তিন ভাই। বিএনপির আরেক নেতা তাহির রায়হান চৌধুরী ব্যয় করবেন ২৫ লাখ টাকা, যার মধ্যে ১৫ লাখ আসবে যুক্তরাজ্যে থাকা তাঁর দুই ভাইয়ের কাছ থেকে। স্বতন্ত্র প্রার্থী ঋতেশ রঞ্জন দেবের ব্যয়ের একটি অংশও আসবে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে।
সুনামগঞ্জ-১ আসন
সুনামগঞ্জ-১ আসনে (ধর্মপাশা, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও মধ্যনগর) জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী তোফায়েল আহমদ নির্বাচনে ব্যয় করবেন ২৫ লাখ টাকা। তাঁর নির্বাচনী ব্যয়ের একটি অংশ আসবে যুক্তরাজ্য, কানাডা ও কুয়েতে থাকা শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে। বিএনপি, নেজামে ইসলাম পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থীরাও প্রবাসী স্বজনদের অর্থের ওপর নির্ভর করছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
সুনামগঞ্জ-৩ আসন
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে (জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ) একাধিক প্রার্থী দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ শাহীনুর পাশা চৌধুরীর ব্যয়ের বড় অংশ আসবে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ছেলে, ভাই ও বোনের কাছ থেকে। বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ নিজেও যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এবং নিজের ব্যবসার আয় থেকে ৩৬ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেনও দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে ছিলেন এবং নিজের আইন পেশার আয় থেকে নির্বাচনী ব্যয় চালাবেন।
সুনামগঞ্জ-৪ আসন
সুনামগঞ্জ-৪ আসনে (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. সামছ উদ্দিন নির্বাচনে ব্যয় করবেন ৩৫ লাখ টাকা, যার বড় অংশই আসবে তাঁর প্রবাসী স্বজনদের কাছ থেকে। স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দলের প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। অনেক প্রার্থী যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সন্তান ও আত্মীয়দের পাঠানো অর্থ নির্বাচনী ব্যয়ে ব্যবহার করবেন।
সুনামগঞ্জ-৫ আসন
সুনামগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অধিকাংশই প্রবাসী স্বজনদের সহায়তায় নির্বাচন পরিচালনা করছেন। কোনো কোনো প্রার্থী দল থেকেও আর্থিক সহায়তা পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।
এ প্রসঙ্গে সুনামগঞ্জ সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সদস্য দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী বলেন, সুনামগঞ্জের প্রায় সব উপজেলাতেই প্রবাসী পরিবার রয়েছে। বিশেষ করে জগন্নাথপুর ও ছাতক উপজেলায় যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসীর সংখ্যা বেশি। জাতীয় কিংবা স্থানীয় যেকোনো নির্বাচনেই প্রবাসীরা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকেন। অনেক সময় তাঁরা দেশে এসে প্রচারণায় অংশ নেন এবং নানাভাবে সহযোগিতা করেন, যা নির্বাচনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
আফরিনা সুলতানা/










