তারেক রহমানের ৪ দিনের উত্তরবঙ্গ সফর শুরু

ফাইল ছবি

দীর্ঘদিন পর দেশের উত্তরাঞ্চলে চার দিনের ঝটিকা সফরে যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ১১ জানুয়ারি থেকে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত এই সফরে তিনি টাঙ্গাইল, বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুরসহ উত্তরের ১০টি জেলা প্রদক্ষিণ করবেন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) তাঁর একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

সফরের বিস্তারিত সময়সূচি

১১ জানুয়ারি: ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে রাতে বগুড়ায় অবস্থান করবেন।

১২ জানুয়ারি: বগুড়া থেকে রংপুর, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও সফর করবেন। এদিন রংপুরে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও বিশেষ দোয়ায় অংশ নেবেন তিনি।

১৩ জানুয়ারি: পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় ও সাংগঠনিক বৈঠকে অংশ নেবেন।

১৪ জানুয়ারি: সফরের শেষ দিনে রংপুর ও বগুড়ায় সমাপনী কর্মসূচি শেষে পুনরায় ঢাকায় ফিরবেন।

তারেক রহমানের এই সফরের অন্যতম প্রধান অংশ হচ্ছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ও শহীদদের কবর জিয়ারত। তিনি মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, শহীদ আবু সাঈদ এবং তৈয়বা মজুমদারের কবর জিয়ারত করবেন। এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও গত কয়েক বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও সমবেদনা জানাবেন তিনি।

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সফরকালে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক জারীকৃত ‘আচরণবিধি’ কোনোভাবেই লঙ্ঘন করা হবে না। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক এবং জেলা-উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিয়েছে বিএনপি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উত্তরবঙ্গের দুর্গখ্যাত জেলাগুলোতে তারেক রহমানের এই সশরীরে উপস্থিতি তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে একটি অবাধ নির্বাচনের আবহ তৈরি হওয়ায় এই সফরটি বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে শহীদ আবু সাঈদের পরিবার ও গণঅভ্যুত্থানের যোদ্ধাদের সাথে সাক্ষাতের মাধ্যমে তিনি তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করবেন।

-এম. এইচ. মামুন