মঙ্গলবার দুপুরে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার শশীগঞ্জ বাজার এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুবদল ও শ্রমিক দলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার জন্য একপক্ষ অপরপক্ষের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে।
আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সামনে এ সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জন্য একপক্ষ অপরপক্ষের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে।
আহতদের মধ্যে মো. নোমান, আব্দুল গফুর, মিরাজ ও রুবেলকে তজুমদ্দিন হাসপাতাল ভর্তি করা হয়েছে। আল-আমীন নামের আরো একজনের অবস্থা গুরুরতর হওয়ায় তাকে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, তজুমদ্দিন উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ইকবাল হোসেন লিটনের সঙ্গে পাওনা টাকা চাওয়া নিয়ে হাসপাতালের সামনে যুবদলকর্মী গিয়াসউদ্দিন হাওলাদার ও মিজানের বাগবিতণ্ডা ও মারামারি হয়।
তজুমদ্দিন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুশান্ত ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। আগে তারা একই পক্ষে থাকলেও সম্প্রতি বিভক্ত হয়ে পড়ে। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিন হাওলাদার। অপর পক্ষে আছেন উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ইকবাল হোসেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তালুকদার মার্কেটের মালিক উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি সবুজ তালুকদার ও তাঁর চাচাতো ভাই ও উপজেলা যুবলীগের সদস্য রিয়াজ তালুকদারের কাছে পাওনা টাকার দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ইকবাল হোসেন ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী আবদুল গফুর ওই মার্কেটের সামনে হইচই শুরু করেন। এ সময় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে যুবদলের কর্মী মো. রুবেলের সঙ্গে হাতাহাতি হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এরপর ইকবাল হোসেন মুঠোফোনে তাঁর লোকদের ডাকেন। খবর পেয়ে জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিন হাওলাদার ও উপজেলা যুবদলের সদস্য মিজানুর রহমান দলবল নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে নৌবাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও নৌবাহিনীর সদস্যরা টহলে রয়েছেন।
এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিন হাওলাদার বলেন, ইকবাল হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা শশীগঞ্জ বাজারে চাঁদাবাজি করছেন। চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত। মঙ্গলবার তাঁরা ব্যবসায়ীদের গালাগাল দিলে স্থানীয় ব্যক্তিরা বাধা দেন। কিন্তু তাঁরা শান্ত না হয়ে হামলা চালান। এতে সংঘর্ষ বাধে এবং তাঁদের পাঁচজন আহত হন।
সানা










