বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় মো. দুর্জয় আহম্মেদ নামে এক ছাত্রকে গুলি করে দুই চোখ অন্ধ করে দেওয়ার মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম এই আদেশ দেন।
এদিন সকাল পৌনে ১০টায় আসামিদের আদালত প্রাঙ্গণে আনা হয় এবং সাড়ে ১০টায় তাদের এজলাসে তোলা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক মো. গোলাম কিবরিয়া খান আসামিদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট) আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন শুনানিতে অংশ নিয়ে আসামিদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তুলে ধরেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে তাদের পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
২০২৪ সালের ২০ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে মধ্যবাড্ডা এলাকায় মিছিলে অংশ নেন ভুক্তভোগী মো. দুর্জয় আহম্মেদ। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় তাদের অনুসারীরা আন্দোলনকারীদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। একটি গুলি দুর্জয়ের মাথার পেছনে বিদ্ধ হয়।
পরবর্তীতে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) দীর্ঘ চিকিৎসার পরও দুর্জয়ের দুই চোখ পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যায়। এই ঘটনায় গত ২০ নভেম্বর দুর্জয় আহম্মেদ বাদী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৯০ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। সালমান এফ রহমান, আনিসুল হক ও দীপু মনি এই মামলার এজাহারনামীয় আসামি ছিলেন।