ভারতীয় ক্রিকেটে আবারও ডোপিংয়ের ছায়া নেমেছে। উত্তরাখণ্ডের বাঁহাতি পেসার রাজন কুমার ডোপ টেস্টে ধরা পড়েছেন। পরীক্ষায় তার নমুনায় তিনটি নিষিদ্ধ উপাদান শনাক্ত হয়েছে। ভারতের জাতীয় অ্যান্টি-ডোপিং সংস্থা (NADA) তাকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে। খবরটি জানিয়েছে দেশটির বার্তা সংস্থা পিটিআই।
২৯ বছর বয়সি রাজনের ডোপ নমুনায় অ্যানাবলিক স্টেরয়েড ড্রোস্টানোলোন, মেটেনোলোন এবং ক্লোমিফিন পাওয়া গেছে। সাধারণত ক্লোমিফিন নারীদের বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়; পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি টেস্টোস্টেরন পুনরুদ্ধারে সহায়ক হতে পারে।
রাজন কুমার সর্বশেষ খেলেছেন গত বছরের সৈয়দ মুস্তাক আলী ট্রফিতে। ৮ ডিসেম্বর আহমেদাবাদে গ্রুপ ‘ডি’র ম্যাচে দিল্লির বিপক্ষে উত্তরাখণ্ডের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন। এ ঘটনার পর এখনো পর্যন্ত তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
ক্রিকেটে তুলনামূলকভাবে ডোপিংয়ের ঘটনা বিরল। ভারতে সর্বশেষ আলোচিত কাণ্ডটি ঘটে ২০১৯ সালে, যখন ব্যাটসম্যান পৃথ্বী শ ডোপ পরীক্ষায় পজিটিভ হন। নিষিদ্ধ উপাদান টারবিউটালিন গ্রহণের দায় স্বীকার করে তিনি দাবি করেছিলেন, এটি অনিচ্ছাকৃত। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড তাকে তখন আট মাসের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল। পরে ২০২০ সালে মধ্যপ্রদেশের অলরাউন্ডার অংশুলা রাওও ডোপিং কাণ্ডে জড়ান।
সামগ্রিকভাবে, ভারতের ক্রীড়াঙ্গনে ডোপিং রেকর্ড উদ্বেগজনক। বিশ্ব অ্যান্টি-ডোপিং সংস্থা (WADA) প্রকাশিত বার্ষিক পরিসংখ্যানে টানা তিন বছর ধরে সবচেয়ে বেশি ডোপিং অপরাধীর তালিকার শীর্ষে ভারত।
ভারত ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমস আয়োজন করতে যাচ্ছে আহমেদাবাদে এবং একই শহরে ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের জন্যও বিড করছে। এই প্রেক্ষাপটে ডোপিংয়ের মতো ঘটনা ক্রীড়াক্ষেত্রে দেশের ভাবমূর্তির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
– এমইউএম/










