কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলা এবং এর দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের নিজস্ব এআই মডেল ও অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে তারা কার্যকর এআই নীতিমালা প্রণয়ন এবং শিক্ষার প্রাথমিক পর্যায় থেকেই এআই নৈতিকতা অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দেন।
সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রফেসর আনওয়ারুল আজিম চৌধুরী লেকচার গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত ‘রেসপন্সিবল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ফর বাংলাদেশ: পলিসি অ্যান্ড ডিজাইন চ্যালেঞ্জেস’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব মতামত উঠে আসে। আলোচনা সভার আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইআইটি) ও দ্য ডেটা ব্যাংক।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইআইটির পরিচালক বি এম মইনুল হোসেন। মূল আলোচনায় অংশ নেন টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটারবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ইশতিয়াক আহমেদ, ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয় আরবানা-শ্যাম্পেইনের সহকারী অধ্যাপক শরিফা সুলতানা, ইউনেস্কোর এআই এক্সপার্টস উইদাউট বর্ডারসের সদস্য জুলকারাইন জাহাঙ্গীর এবং অগমেডিক্স বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর রাশেদ মুজিব নোমান।
ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, এআই প্রযুক্তি পরিচালনায় বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও পানির প্রয়োজন হয়, যা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল ও সম্পদ-সীমিত দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তাই দেশের বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে এআই অবকাঠামো পরিকল্পনা করা জরুরি।
শরিফা সুলতানা বলেন, এআই অবকাঠামো নির্মাণের আগে একটি সুস্পষ্ট, বাস্তবধর্মী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থায় এআই নৈতিকতা যুক্ত না হলে ভবিষ্যতে প্রযুক্তিটির নেতিবাচক দিক সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
রাশেদ মুজিব নোমান তার বক্তব্যে বলেন, দেশের নিজস্ব এআই সক্ষমতা গড়ে তুলতে স্থানীয় ডেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় মানসম্মত লোকাল ডেটার ঘাটতি এখনো একটি বড় বাধা।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, মোবাইল ফোন অপারেটর প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার পাশাপাশি আইআইটির শিক্ষার্থী তাসনিম ও মেহেজাবীন এ বিষয়ে একটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন।
-সাবরিনা রিমি










