ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ রোববার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে আরও সামরিক হামলার সম্ভাবনার কথা বলার একদিন পর তিনি এই আহ্বান জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে রদ্রিগেজ বলেন, তার সরকার আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় “যৌথ উন্নয়ন” ভিত্তিক সহযোগিতার পথে এগোতে চায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্মানজনক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
“আমরা যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে শান্তি ও সংলাপভিত্তিক সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছি,” বলেন রদ্রিগেজ। “আমাদের অঞ্চল ও জনগণের যুদ্ধ নয়, শান্তি প্রয়োজন।”
এর আগে ভেনেজুয়েলা সরকার শনিবারের মার্কিন অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করার ঘটনাকে অবৈধ বলে আখ্যা দিয়েছিল এবং এটিকে দেশের জাতীয় সম্পদ দখলের চেষ্টা বলে অভিযোগ করেছিল।
ডেলসি রদ্রিগেজ, যিনি দেশটির তেলমন্ত্রীও, মাদুরোর ঘনিষ্ঠদের মধ্যে সবচেয়ে বাস্তববাদী হিসেবে পরিচিত। ট্রাম্প এর আগে দাবি করেছিলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। তবে প্রকাশ্যে রদ্রিগেজসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা মাদুরোকে এখনও বৈধ প্রেসিডেন্ট বলে দাবি করে আসছেন।
এদিকে রোববার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলা যদি তাদের তেল শিল্প উন্মুক্ত করতে এবং মাদক পাচার বন্ধে সহযোগিতা না করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালাতে পারে। তিনি কলম্বিয়া ও মেক্সিকোর বিরুদ্ধেও সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন এবং বলেন, কিউবার সরকার “নিজ থেকেই ভেঙে পড়ার পথে” রয়েছে।
সোমবার নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে মাদুরোর। যুক্তরাষ্ট্র সরকার জানিয়েছে, তার আটক একটি আইন প্রয়োগমূলক অভিযান, যা ২০২০ সালে দায়ের করা মাদক-সন্ত্রাসবাদের মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
মার্কিন কৌঁসুলিদের অভিযোগ, মাদুরো আন্তর্জাতিক মাদক চক্রগুলোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, কোকেন পাচারের পথ নিরাপদ করেছিলেন এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার করে মাদক পরিবহনে সহায়তা দিয়েছিলেন। শনিবার এসব অভিযোগে তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের নামও যুক্ত করা হয়। মাদুরো ও তার স্ত্রী অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সোমবার জরুরি বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস একে আন্তর্জাতিক আইনের জন্য “বিপজ্জনক নজির” বলে উল্লেখ করেছেন।
চীন যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে মাদুরো দম্পতিকে মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে। ওয়াশিংটনে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসন তাদের ভেনেজুয়েলা নীতি নিয়ে বিভ্রান্ত করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সোমবার কংগ্রেসে ব্রিফিং দেওয়ার কথা রয়েছে।
একসময় লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে সমৃদ্ধ দেশগুলোর একটি ভেনেজুয়েলা গত দুই দশকে গভীর অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। এই সময়ের মধ্যে দেশটির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ মানুষ বিদেশে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ১২ বছরের বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা মাদুরোর অপসারণ দেশটিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
সূত্র:রয়টার্স
এম এম সি/










