পুলিশের যৌথ অভিযানে রাউজানে অগ্নিসংযোগের প্রধান আসামি মনির গ্রেফতার

ইসমাইল ইমন, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা শাখা, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে অগ্নিসংযোগের প্রধান আসামি মনির গ্রেফতার হয়েছে।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম জেলার রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া থানা এলাকায় গভীর রাতে বিভিন্ন ব্যক্তির বসতঘরে একাধিক অগ্নিসংযোগের ঘটনা সংঘটিত হয়।

উক্ত প্রতিটি অগ্নিসংযোগের ঘটনাস্থল থেকে বিশেষ ধরনের উসকানিমূলক ব্যানার উদ্ধার করা হয়, যা ANCOR ব্র্যান্ডের মটর ভূষি ও অন্যান্য ব্রান্ডের প্লাস্টিকের বস্তা দিয়ে তৈরি ছিল।

ব্যানারগুলোতে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্টে উস্কানিমূলক বক্তব্য, বিভিন্ন ব্যক্তির নাম ও একাধিক মোবাইল নম্বর উল্লেখ ছিল।

অগ্নিসংযোগের ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), রাঙ্গুনিয়া ও রাউজান থানা কর্তৃক যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানের একপর্যায়ে প্রাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে গত ০২ জানুয়ারি দুপুর আনুমানিক ১২:৩০ মিনিটের সময় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার কলেজ গেট এলাকা থেকে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি মোঃ মনির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার বসতঘর তল্লাশি করে ANCOR ব্র্যান্ডের মটর ভূষির ৩টি খালি প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করা হয়, যা ঘটনাস্থলে ব্যবহৃত ব্যানারের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

গ্রেফতারকৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, উদ্ধারকৃত ব্যানারে উল্লেখিত একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে তার পূর্বশত্রুতা ছিল। এছাড়া অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের বিষয়ে তিনি প্রাথমিকভাবে পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন।

গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ মনির হোসেন পূর্বে চট্টগ্রামের রাউজান এলাকায় এবং পরবর্তীতে রাঙ্গামাটির কলেজ গেট এলাকায় বসবাস করতেন। তার বিরুদ্ধে রাঙ্গামাটির লংগদু ও চট্টগ্রামের রাউজান থানায় চুরি ও মাদকসহ মোট ৪টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি চুরি মামলায় তিনি ৬ (ছয়) মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিল।

প্রাথমিক তদন্ত, জিজ্ঞাসাবাদ, উদ্ধারকৃত আলামত ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে রাঙ্গামাটির কলেজ গেট ও রানিরহাট এলাকায় রাজানগর এবং রাউজান পৌরসভা এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে পূর্বশত্রুতা ও ব্যক্তিগত ক্ষোভের জের ধরে গ্রেফতারকৃত আসামি পরিকল্পিতভাবে মানুষের বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রমান পাওয়া যায়। এই ঘটনার মাধ্যমে একদিকে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট, অপরদিকে শত্রুপক্ষের ওপর দায় চাপানোর অপচেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য প্রমান পাওয়া যায়।

গ্রেফতারকৃত আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দপূর্বক রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।