ভারত থেকে চাল আমদানি রাজনৈতিক বিষয় নয়, এটি বাজারের প্রক্রিয়া: খাদ্য উপদেষ্টা

ভারত থেকে চাল বা অন্যান্য খাদ্যপণ্য আমদানিকে রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে না দেখে বরং ‘বাজার প্রক্রিয়া’ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। আজ রোববার (৪ জানুয়ারি) সচিবালয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দেশের খাদ্য পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
ভারতের সঙ্গে বর্তমান কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে চাল আমদানিতে কোনো প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, “বাণিজ্যের সঙ্গে রাজনৈতিক ইস্যুকে এক করা যাবে না। ভারত থেকে আমরা টাকা দিয়ে চাল কিনি, তারা বাজারে বিক্রি করে। প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতেই তারা বিক্রি করে এবং আমরা ক্রয় করি। আমরা বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে দেখি না, বরং এটি বাজারের মেকানিজম। যেখানে দাম কম পাব, সেখান থেকেই আমরা কিনব।”
দেশের অভ্যন্তরীণ খাদ্য সংগ্রহের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে আলী ইমাম মজুমদার জানান, সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি খাদ্যশস্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি জানান, লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫০ হাজার টন ধান সংগ্রহ করার, সংগ্রহ হয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার টন। সেদ্ধ চালের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ টনের বিপরীতে সংগৃহীত হয়েছে ৭ লাখ ৩২ হাজার টন আর আতপ চালের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৭ হাজার টন, সংগ্রহ হয়েছে ৫৭ হাজার ৫৯৬ টন।
উপদেষ্টা বলেন, “আল্লাহর রহমতে আমাদের বর্তমান খাদ্য পরিস্থিতি অত্যন্ত সন্তোষজনক ও স্বস্তিকর। সংগ্রহ অভিযান ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলার কথা থাকলেও আমরা এরই মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছি।”
চালের বাজারমূল্য নিয়ে জনমনে শঙ্কার বিষয়ে খাদ্য উপদেষ্টা আশ্বস্ত করে বলেন, “বর্তমানে সাপ্লাই চেইন (সরবরাহ ব্যবস্থা) সচল এবং সমৃদ্ধ রয়েছে। স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ অভিযান সফল হওয়ায় এবং পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় নিকট ভবিষ্যতে চালের দাম বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।”
তিনি আরও যোগ করেন, “কৃষি প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল হলেও সামনের বড় ফসলগুলোর উৎপাদন ভালো হলে চলতি বছরটি খুব ভালোভাবে কেটে যাবে।”
সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা ও রেশনিং কার্যক্রম সচল রাখতে বছরে প্রায় ৩৬ লাখ টন খাদ্যের প্রয়োজন হয়, যা বর্তমান মজুদ দিয়ে অনায়াসেই মেটানো সম্ভব বলে সভায় জানানো হয়।

 

-এম. এইচ. মামুন