সিলেটে প্রার্থীদের শর্ত প্রদান, না মানলে জেল-জরিমানা

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে সংসদ নির্বাচনের আসনভিত্তিক ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ২৫ লাখ থেকে ৮৪ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে পারবেন। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর আসনের ভোটার সংখ্যার ওপর নির্ভর করবে তার ব্যয়সীমা। আর এই ব্যয়সীমা লঙ্ঘন করলে হতে পারে সাত বছর জেল ও জরিমানা।

মনোনয়নপত্র নেওয়ার সময় সেই তালিকার  প্রার্থিরা সংগ্রহও করেছেন। নির্বাচনী ব্যয় সেই তালিকা মোতাবেক আইনে নির্ধারিত সীমার মধ্যে রাখতে হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের অনুচ্ছেদ ৪৪ (খ) এর দফা তিন অনুযায়ী, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়, তাকে মনোনয়ন প্রদানকারী রাজনৈতিক দল থেকে তার জন্য কার ব্যয়সহ ভোটার প্রতি ১০ টাকা হারে অথবা মোট ২৫ লাখ টাকার মধ্যে যা সবোর্চ্চ, তার অধিক হবে না।

এদিকে সিলেটের ছয়টি আসন থেকে ৪৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এদের মধ্যে ৫ জনের মনোয়নপত্র স্থগিত ও ৭ জনের বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। অবশিষ্ট ৩৫ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষিত হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এসব তথ্য জানান সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। সিলেটে মনোয়ন স্থগিত ৫ জনের মধ্যে দুজন বিএনপির প্রার্থী।

সিলেট-৩ আসনের প্রার্থী এম এ মালিক, অপরজন সিলেট-৬ আসনের প্রার্থী ফয়সল চৌধুরী। এছাড়া সিলেট-১ আসনের এনসিপির প্রার্থী এহতেশামুল হক, সিলেট-৪ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী মুজিবুর রহমান ও সিলেট-৬ আসনের গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জাহিদুর রহমানের মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে।

আসনভিত্তিক ভোটার তালিকা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ছয় লাখের বেশি ভোটারের আসন সিলেট-১। প্রার্থীরা ৬০ লাখ ৪৭ হাজার ৩৮০ টাকা থেকে ৬৯ লাখ ৫৩ হাজার ৬০ টাকা ব্যয় করতে পারবেন।

পাঁচ লাখের বেশি ভোটারের আসন হবিগঞ্জ-৪, সিলেট-৪, সিলেট-৬ ও সুনামগঞ্জ-১। এসব আসনের প্রার্থীরা ৫০ লাখ এক হাজার ৮১০ টাকা থেকে আসন ভেদে ৫৯ লাখ ৩৩ হাজার ৪৮০ টাকা ব্যয় করতে পারবেন।

চার লাখের বেশি ভোটার রয়েছে মৌলভীবাজার-৪, মৌলভীবাজার-৩, হবিগঞ্জ-১, সিলেট-৫, হবিগঞ্জ-৩,সিলেট-৩ আসন। এসব আসনের প্রার্থীরা আসন ভেদে ৪০ লাখ ৫৯০ থেকে ৪৯ লাখ ৯৪ হাজার ৪৮০ টাকা ব্যয় করতে পারবে।

তিন লাখের বেশি ভোটার রয়েছে হবিগঞ্জ-২, সিলেট-২, মৌলভীবাজার-১, সুনামগঞ্জ-২ ও মৌলভীবাজার-২। এসব আসনের প্রার্থীরা ৩০ লাখ ৩০ হাজার ২০০ টাকা থেকে ৩৯ লাখ ৯৫ হাজার ১০ টাকা ব্যয় করতে পারবেন।

ইসি কর্মকর্তা বলছেন, আইনে নির্ধারিত ব্যয়সীমার ব্যত্যয় সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর জেল-জরিমানা করা হতে পারে। আরপিওর ৭৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ব্যয়সীমার বিধান না মানলে বা প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে তা বে-আইনিকার্যের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হতে হবে। এজন্য ন্যূনতম দুই বছর থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হতে পারে।

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানউল্লাহ এ বিষয়ে বলেন, আগের আইনটি সংশোধন করে ২৫ লাখ টাকা বা ভোটার প্রতি ১০ টাকা হিসেবে যে অংক বড় হবে সেই পরিমাণ অর্থই সংশ্লিষ্ট আসনের প্রার্থীরা ব্যয় করতে পারবেন, এমন বিধান আনা হয়েছে। এক্ষেত্রে কোনো আসনে ভোটার সংখ্যা কম হওয়ার কারণে যদি মাথাপিছু ১০ টাকা হারে ২৫ লাখ টাকার কম হয়, তবে ওই আসনের প্রার্থীরা সর্বোচ্চ অংক হিসেবে ২৫ লাখ টাকাই ব্যয় করতে পারবে। আগের আইনে সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা ছিল ২৫ লাখ টাকা।

 

রাসেল রানা