১২ ঘণ্টা বন্ধের পর পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক

তীব্র ঘন কুয়াশার কারণে টানা ১২ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। আজ রোববার (৪ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুয়াশার ঘনত্ব কমে এলে কর্তৃপক্ষ ফেরিসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল স্বাভাবিক করার ঘোষণা দেয়।
বিআইডব্লিউটিসি ও ঘাট সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার (৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টা থেকে পদ্মা নদী অববাহিকায় কুয়াশার তীব্রতা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে কুয়াশার ঘনত্ব বেড়ে গিয়ে নৌপথের মার্কিং পয়েন্ট ও বিকন বাতি অস্পষ্ট হয়ে পড়লে চালকদের দৃষ্টিসীমা শূন্যতে নেমে আসে। ফলে সম্ভাব্য নৌ-দুর্ঘটনা এড়াতে রাত সাড়ে ১১টা থেকেই দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
ফেরিসার্ভিস বন্ধ হওয়ার সময় যাত্রী ও যানবাহন নিয়ে ‘বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান’সহ কয়েকটি ফেরি মাঝনদীতে নোঙর করতে বাধ্য হয়। তীব্র শীতে মাঝনদীতে আটকে পড়া যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। এছাড়া পাটুরিয়া ঘাটে ৫টি এবং দৌলতদিয়া ঘাটে ৪টি ফেরি পন্টুনে ভিড়ে আটকা পড়ে ছিল।
দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় নদীর উভয় পাড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। দৌলতদিয়া প্রান্তে কয়েক শ যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ি আটকা পড়ায় কয়েক হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা কনকনে শীতে মানবেতর সময় পার করেন।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম বাণিজ্য) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, “ঘন কুয়াশার কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা দীর্ঘ সময় ফেরিসার্ভিস বন্ধ রাখতে বাধ্য হই। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুয়াশা কেটে গেলে পুনরায় চলাচল শুরু হয়েছে। বর্তমানে ছোট-বড় ১৪টি ফেরি দিয়ে আটকে পড়া যানবাহনগুলো দ্রুত পারাপার করা হচ্ছে।”
আরিচা-কাজিরহাট নৌপথেও একই কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল, যা আজ দুপুর ১২টার দিকে পুনরায় চালু হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

-এম. এইচ. মামুন