মৌলবাদী হিন্দুত্ববাদীদের হুমকির মুখে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে সরকার।
আজ রোববার (৪ জানুয়ারি) সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এ তথ্য জানান। মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “খেলাটা যদি খেলার জায়গায় থাকত, তবে খুবই ভালো হতো। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এখানে রাজনীতি নিয়ে আসা হয়েছে। সাধারণত দুটি দেশের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকলে খেলাধুলা বা সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে তা কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু এখানে দেখা গেল সম্পূর্ণ উল্টো কাজ করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “একজন খেলোয়াড়কে নিশ্চিত করার পর তাকে রাজনৈতিক যুক্তিতে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা আমরা সংবাদমাধ্যমে দেখেছি। এ ধরনের সিদ্ধান্তে আমাদের দেশের মানুষের মনে আঘাত লেগেছে এবং একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।”
সম্প্রতি আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল আইপিএলের সম্প্রচার বাংলাদেশে বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এ বিষয়ে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “আইন উপদেষ্টা যে প্রস্তাব দিয়েছেন, আমরা তার আইনগত ভিত্তি এবং প্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই করছি। এটি কোন মাধ্যমে এবং কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তা পর্যালোচনা শেষে আমরা আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেব। আমাদের চুপ করে বসে থাকার উপায় নেই।”
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, “আমি মনে করি না এটা অর্থ উপদেষ্টার (ভারতের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা সংক্রান্ত) বক্তব্যের সঙ্গে কনফ্লিক্টিং হবে। এখানে আমাদের জন্য একটি বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে এবং তার প্রেক্ষাপটে আমাদের একটি ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে।”
রিজওয়ানা হাসান দৃঢ়তার সাথে বলেন, “মোস্তাফিজকে যে যুক্তিতে মানা করা হচ্ছে, তা আমরা কোনোভাবেই গ্রহণ করতে পারি না। খেলার বাইরের কোনো যুক্তিতে তাকে বাদ দেওয়া হলে সেখানে আমাদের প্রতিক্রিয়া দেখানোটা জরুরি।”
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের কথিত অভিযোগ তুলে ভারতের হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। এমনকি কেকেআর মালিক শাহরুখ খানকেও কলকাতায় ঢুকতে না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এরই প্রেক্ষিতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) মোস্তাফিজকে স্কোয়াড থেকে মুক্ত করার নির্দেশ দেয় কেকেআর-কে। এই ঘটনার পর থেকেই বাংলাদেশের ক্রীড়ামোদীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
-এম. এইচ. মামুন










