দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের চীন সফর শুরুর দিনই রোববার অন্তত দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কোরীয় উপদ্বীপ ও জাপানের মধ্যবর্তী সাগরে পতিত হয়েছে। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযানের পর বৈশ্বিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে।
প্রায় দুই মাস পর উত্তর কোরিয়ার এটাই প্রথম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। উৎক্ষেপণটি ঘটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনেজুয়েলায় বড় ধরনের হামলার কয়েক ঘণ্টা পর, যেখানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হন।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে পিয়ংইয়ংয়ের কাছাকাছি এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উৎক্ষেপণ করা হয়, যা প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অন্তত দুটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে, যেগুলোর পাল্লা ছিল প্রায় ৯০০ ও ৯৫০ কিলোমিটার।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রাজনৈতিক বার্তা দিতে চেয়েছে পিয়ংইয়ং।
সিউলের ইনস্টিটিউট ফর ফার ইস্টার্ন স্টাডিজের অধ্যাপক লিম ইউল-চুল বলেন, “এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ঠেকানোর বার্তা এবং নিরস্ত্রীকরণ প্রশ্নে চীনের অবস্থানের পাল্টা জবাব।”
তিনি আরও বলেন, ভেনেজুয়েলার ঘটনার প্রেক্ষাপটে উত্তর কোরিয়া দেখাতে চেয়েছে যে তারা ভিন্ন অবস্থানে—একটি পারমাণবিক ও সামরিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে ‘আক্রমণাত্মক প্রতিরোধ’ গড়ে তুলতে প্রস্তুত।
ইয়নসেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং অধ্যাপক বং ইয়ংশিক বলেন, “ভেনেজুয়েলায় যা ঘটছে, তা দেখে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত হওয়ার কথা কিম জং উনের।”
ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক ডেকে উত্তর কোরিয়ার এই পদক্ষেপকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘনকারী ‘উসকানিমূলক কাজ’ হিসেবে আখ্যা দেয়।
জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি বলেন, এই উৎক্ষেপণ প্রতিবেশী দেশ, অঞ্চল এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি। টোকিও পিয়ংইয়ংয়ের কাছে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বলেও তিনি জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, এই উৎক্ষেপণ তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের জন্য কোনো হুমকি তৈরি করেনি। তবে পরিস্থিতি নিয়ে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পরামর্শ চলছে।
চীন সফরকালে প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা উপদেষ্টা উই সুং-লাক বলেন, কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হবে এবং এ ক্ষেত্রে চীনের গঠনমূলক ভূমিকা প্রত্যাশা করছে সিউল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপ পুনরায় শুরু করতে বেইজিংয়ের মধ্যস্থতা চাওয়াই হবে লির মূল লক্ষ্য। যদিও ক্ষমতায় আসার সাত মাস পরও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে পিয়ংইয়ং।
উত্তর কোরিয়া সর্বশেষ গত ৭ নভেম্বর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছিল। শনিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, এক অস্ত্র কারখানা পরিদর্শনের সময় কিম জং উন কৌশলগত নির্দেশিত অস্ত্রের উৎপাদন সক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর নির্দেশ দেন। এ বছর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির নবম কংগ্রেসকে সামনে রেখে সামরিক শক্তি বৃদ্ধির অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এম এম সি/










