মাদুরোকে ‘অপরাধীর মতো হাঁটিয়ে নেওয়ার’ ভিডিও প্রকাশ হোয়াইট হাউসের, রাখা হবে ব্রুকলিনের কুখ্যাত কারাগারে

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে `অপরাধীকে জনসমক্ষে হাঁটিয়ে নেওয়ার মতো’ একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউসের সরকারি র‍্যাপিড রেসপন্স অ্যাকাউন্ট। খবর সিএনএনের।

ভিডিওটির ওপর ‘র‍্যাপিড রেসপন্স ৪৭’ লিখেছে, ‘পার্প ওয়াক (অপরাধীকে জনসমক্ষে হাঁটিয়ে নেওয়া) করানো হলো।’ ভিডিওতে দেখা যায়, কালো হুডি পরা অবস্থায় মাদুরো একটি করিডোর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। সেখানকার নীল রঙের কার্পেটে ‘ডিইএ এনওয়াইডি’ (মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা-ডিইএ, নিউইয়র্ক বিভাগ) লেখা রয়েছে।

ভিডিওটিতে মাদুরোকে সেখানে উপস্থিত এক ব্যক্তিকে ‘শুভ নববর্ষ’ বলে শুভেচ্ছা জানাতে দেখা যায়।

গভীর উদ্বেগ জানালেন জাতিসংঘ মহাসচিব ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বৈঠক ডাকা হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) এ বৈঠক হওয়ার কথা।

জাতিসংঘের উদ্বেগ

মার্কিন সামরিক অভিযান ও ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে সস্ত্রীক তুলে আনার ঘটনায় ‘গভীর উদ্বেগ’ জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। মহাসচিবের মুখপাত্র সতর্ক করে বলেছেন, এসব হামলার ঘটনা ‘বিপজ্জনক নজির’ সৃষ্টি করতে পারে।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের দুই স্থায়ী সদস্য চীন ও রাশিয়া হামলার নিন্দা জানিয়েছে। এ দুটি দেশ ভেনেজুয়েলার মিত্র হিসেবে পরিচিত।

অপর দুই স্থায়ী সদস্য এবং মার্কিন মিত্র ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য ক্ষমতা থেকে মাদুরোর অপসারণকে স্বাগত জানিয়েছে। দেশ দুটি বলেছে, তারা ভেনেজুয়েলায় গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছে।

রাখা হবে ব্রুকলিনের বন্দিশিবিরে

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বহনকারী উড়োজাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত স্টুয়ার্ট এয়ার ন্যাশনাল গার্ড বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় শনিবার বিকেল ৫টার দিকে উড়োজাহাজটি ওই বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে ওই উড়োজাহাজের দরজায় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা-এফবিআই’র ইউনিফর্ম পরিহিত কর্মকর্তাদের দেখা যায়। এরপর উড়োজাহাজটি থেকে মাদুরো বের হয়ে আসেন। ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস তুলে নেওয়ার ১৫ ঘণ্টা পর তাকে নিউইয়র্কে দেখা গেল।একটি অস্পষ্ট ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বন্দী ভেনেজুয়েলার নেতার পরনে একটি নীল জ্যাকেট আর মুখ ঢাকা ছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা তাকে উড়োজাহাজের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামিয়ে আনেন। উড়োজাহাজ থেকে নামার পর তাকে ঘিরে ছিলেন এফবিআই ও মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সদস্যরা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখান থেকেই মাদুরোকে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগে করা মামলায় ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে হাজির করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, স্থানীয় সময় শনিবার বিকেলে নিউইয়র্কের বিমানঘাঁটিতে নামার পর মাদুরোকে হেলিকপ্টারে করে ম্যানহাটনের ওয়েস্টসাইড হেলিপোর্টে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে মার্কিন মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (ডিইএ) সদর দপ্তরে নিয়ে প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা। এরপরই তাঁর পরবর্তী গন্তব্য হতে যাচ্ছে ব্রুকলিনের বন্দিশিবির।

নিউইয়র্কের এই কুখ্যাত কারাগারটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দীদের রাখার জন্য পরিচিত। এর আগে পপ তারকা আর কেলি, যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনের সহযোগী গিলেন ম্যাক্সওয়েল এবং সম্প্রতি র‍্যাপার শন ‘ডিডি’ কম্বসকে এই কারাগারেই রাখা হয়েছিল।

ভেনেজুয়েলায় শনিবার ভোরে ‘বড় পরিসরে’ হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে ধরার কথা জানান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর সাত ঘণ্টা পরে আটক মাদুরোর ছবি প্রকাশ করেন তিনি।

সামাজিকমাধ্যম ট্রুথে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, ছাই রঙের ট্র্যাক স্যুট পরে আছেন মাদুরো। কালো বন্ধনী দিয়ে তার চোখ বাঁধা। হাতে রয়েছে একটি পানির বোতল।

এছাড়া তার কানে বিশালাকৃতির হেডফোনও আছে। মাদুরোর পাশে তার স্ত্রী রয়েছেন কিনা সেটি স্পষ্ট নয়। কারণ ট্রাম্পের প্রকাশিত ছবিতে তার স্ত্রীকে দেখা যায়নি।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা/ বিবিসি     /মামুন/