বাংলাদেশে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে অনেকের কাছেই আকাঙ্খিত জায়গা বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের ( বিসিএস) ক্যাডার হওয়া। দীর্ঘ ১৮ বছর আগে ২৭তম বিসিএসে নির্বাচিত হয়েও সরকারের বাধার কারনে এই স্বপ্নের চাকরিতে যোগদান করতে পারেননি তিনি। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে আদালতে যান বাদ পড়ারা। দীর্ঘ দিন পর আদালতের রায় আসে তাদের পক্ষে। এর মধ্যে একজন নরসিংদী সাটিরপাড়া কালিকুমার ইন্সটিটিউট অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবু তালেব।
তিনি ২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অধ্যক্ষ হিসাবে নরসিংদীর সাটিরপাড়া কালী কুমার ইন্সটিটিউট অ্যান্ড কলেজে যোগদান করেন। এর আগে তিনি ২০০২ সাল থেকে তিনি কুমিল্লার নিমসার জুনাব আলী কলেজে কৃষি বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসাবে শিক্ষকতা পেশা শুরু করেন।
লেখাপড়া শেষ করে তিনি বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েও যোগদান করতে না পেরে শিক্ষকতায় যোগ দিয়েছিলেন।
দীর্ঘ ১৮ বছর পর সেই বিসিএস উত্তীর্ণদের কাঙ্খিত যোগদানের নির্দেশনা পেয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে যোগদান করার কথা। এ অবস্থায় স্কুল কমিটির সদস্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনুরোধে বিসিএসের চাকরীতে যোগদান না করে অধ্যক্ষ হিসেবে রয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তাই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাঁকে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে।
এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে স্কুল প্রাঙ্গনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রধান শিক্ষক দেব প্রসাদ সাহার সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি ভিপি ইলিয়াছ আলী ভূঁইয়া, অধ্যক্ষ মোঃ আবু তালেব, সদস্য নজরুল ইসলাম,সিনিয়র শিক্ষক রাশেদুল আলম, সিনিয়র শিক্ষক আকলিমা আক্তার, সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) অহিদুজ্জামান অপু, সিনিয়র শিক্ষক মো: সাইফুল্লাহ, সিনিয়র শিক্ষক বশীর আহমদ খান, সিনিয়র শিক্ষক হিরু মিয়া,সিনিয়র শিক্ষক তপন কুমার আচার্য প্রমুখ।
এসময় প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ইলিয়াছ আলী ভূঁইয়া বলেন, একটি দেশকে এগিয়ে নিতে হলে শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে হয়। আর এজন্য দরকার হয় মানসম্মত পাঠদানের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এসব মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার জন্য দরকার হয় মোহাম্মদ আবু তালেব স্যারের মতো শিক্ষক। তিনি মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন। যার জন্য আজ প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে এমন একজন শিক্ষকের প্রয়োজনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অনুরোধে বিসিএস ক্যাডারের চাকরি বাদ দিয়ে তিনি পুনরায় স্বপদে বহাল হয়েছেন। এই শিক্ষক এই এলাকার মাথার তাজ হয়ে থাকবেন।
এসময় অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবু তালেব অনুভুতি জানাতে গিয়ে বলেন, লেখাপড়া শেষে ২৭তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও যোগদান করতে পারিনি। যার ফলে শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করি। পরে সরকারি চাকরির চিন্তা অনেকটা ছেড়ে দিয়ে এখানে শিক্ষকতায় মনোনিবেশ শুরু করি। মাত্র একটি বছরে এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি ইট পাথরকে যেনো ভালোবেসে ফেলেছি। দীর্ঘদিন পরে হলেও বিসিএসে যোগদানের সুযোগ পেয়েও আমি নিরবে চলে যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তুু পারিনি। এ প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সদস্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থীর ও অভিভাবকদের অনুরোধ আমি ফেলতে পারেনি। তাদের মায়া ও ভালোবাসায় আমি সরকারি চাকরিতে যোগদান না করে শিক্ষকতা পেশায় রয়ে গেলাম। এতে করে আমি নিজেকে গর্ববোধ করছি।
ফুল, ক্রেস্ট ও উত্তরীয় পরিয়ে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি,বিশেষ অতিথি ও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মচারী, অভিভাবকগণ।
আলোচনা শেষে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা, ক্রেস্ট ও উত্তরীয় দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। সবশেষে নতুন বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেয়া হয়।
মো. কবির হোসেন
মনোহরদী( নরসিংদী) প্রতিনিধি










