প্রাথমিক শিক্ষাকে আনন্দ, সংস্কৃতি ও সামাজিক অংশগ্রহণের সঙ্গে যুক্ত করার এক অনুকরণীয় উদ্যোগ দেখা গেল খাগড়াছড়ির দীঘিনালায়। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে দীঘিনালা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে শিক্ষার্থী বরণ, পিঠা উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল শিশুদের বিদ্যালয়ের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করা এবং পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশে সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা। সকাল থেকেই বিদ্যালয় চত্বরে শিশুদের কোলাহল, অভিভাবকদের অংশগ্রহণ এবং উৎসবের আমেজে ভরে ওঠে পুরো এলাকা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক স্তরে শিশুদের শেখার আনন্দ নিশ্চিত করা না গেলে শিক্ষা টেকসই হয় না। তাঁর মতে, এ ধরনের সৃজনশীল উদ্যোগ শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং বিদ্যালয়কে তাদের কাছে আনন্দের জায়গা হিসেবে গড়ে তোলে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম বদিউজ্জামান জানান, বিদ্যালয়কে কেবল পাঠদানের স্থান নয়, বরং শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতেই এই আয়োজন। তিনি বলেন, “শিশুদের আনন্দ ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারলে শেখার ফলাফলও ইতিবাচক হয়।”
পিঠা উৎসব ছিল আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ। শ্রেণিভিত্তিক স্টলে সাজানো হয় গ্রামবাংলার নানা ধরনের পিঠা। অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই উৎসব হয়ে ওঠে বিদ্যালয়–সমাজের মিলনক্ষেত্র। শিশুদের কাছে এটি ছিল নতুন অভিজ্ঞতা, আবার বড়দের কাছে ঐতিহ্যের স্মরণ।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্যোগটির প্রশংসা করেন। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শিশুদের সৃজনশীল প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ করে দেয়।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, দীঘিনালার এই উদ্যোগ দেখিয়ে দিয়েছে শিক্ষার মান উন্নয়নে অবকাঠামো বা পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি শিশুবান্ধব পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক চর্চাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হলে প্রাথমিক শিক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আরও দৃশ্যমান হবে।
মোঃ লোকমান হোসেন, খাগড়াছড়ি










