শরীয়তপুরের ডামুড্যায় দুর্বৃত্তদের নৃশংস হামলার শিকার ওষুধ ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাস (৪০) মারা গেছেন। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত খোকন চন্দ্র দাস উপজেলার কেউরভাঙা বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী এবং এজেন্ট ব্যাংকিং পরিচালনার সাথে যুক্ত ছিলেন। গত বুধবার রাতে ডামুড্যার তিলই এলাকায় তাঁকে কুপিয়ে ও গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে তিলই এলাকায় দুর্বৃত্তরা খোকন দাসের ওপর হামলা চালায়। প্রথমে তাকে কুপিয়ে জখম করা হয় এবং পরে গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ দগ্ধ হওয়ায় তাকে বার্ন ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছিল।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান বিধান সরকার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দগ্ধ ও জখম মারাত্মক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসা প্রদান করা হলেও আজ সকালে তিনি মারা যান।
মৃত্যুর আগে দেওয়া জবানবন্দিতে খোকন দাস হামলায় জড়িত হিসেবে দুইজনের নাম উল্লেখ করেছিলেন। তারা হলেন— কনেশ্বর এলাকার সোহাগ খান (২৭) ও রাব্বি মোল্যা (২১)। পুলিশি তদন্তে এই ঘটনায় পলাশ সরদার (২৫) নামে আরও একজনের নাম উঠে এসেছে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে ডামুড্যা থানায় একটি মামলা করেছেন। ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রবিউল হক জানান, “আমরা নিহতের মৃত্যুর খবর পেয়েছি এবং ঢাকার শাহবাগ থানার সঙ্গে সমন্বয় করছি। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
খোকন দাসের মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে কেউরভাঙা বাজারের ব্যবসায়ী ও তিলই গ্রামের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। নিহতের ভাগনে প্রান্ত দাস জানান, আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত শেষে আজই গ্রামের বাড়িতে খোকন দাসের শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
-এম. এইচ. মামুন










