সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার দাবি ক্যাবের

চিনি, ভোজ্যতেল এবং এলপি গ্যাসের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি ও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সরকারের প্রতি অবিলম্বে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) সংগঠনটির এক বিবৃতিতে এই দাবি জানানো হয়।
ক্যাব তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে যে: গত এক সপ্তাহে চিনির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। আমদানিতে ঘাটতির অজুহাত দেখিয়ে মিল পর্যায়ে সরবরাহে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করা হচ্ছে, যেখানে আমদানিকারক ও পরিবেশকদের কারসাজির অভিযোগ রয়েছে। সয়াবিন ও পাম তেলের বাজারেও উৎসবকে সামনে রেখে দাম বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে প্রভাবশালী চক্র।
বাজার স্থিতিশীল করতে এবং ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে ক্যাব সরকারের কাছে যে দাবিগুলো পেশ করেছে:
তথ্য যাচাই ও শাস্তি: মিল পর্যায়ে উৎপাদন ও মজুত তথ্য যাচাই করে সিন্ডিকেট চক্রকে চিহ্নিত করা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া।
কঠোর নজরদারি: চিনি ও ভোজ্যতেলের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা।
মূল্য সামঞ্জস্য: আন্তর্জাতিক বাজারদরের সাথে দেশের আমদানি ব্যয় ও বিক্রয়মূল্যের যৌক্তিক সমন্বয় করা।
প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ: পাইকারি ও খুচরা বাজারের মধ্যে অযৌক্তিক দামের পার্থক্য কমাতে প্রশাসনকে কঠোর হওয়া।
কার্যকর সমন্বয়: এলপিজির নির্ধারিত মূল্য নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, ভোক্তা অধিদপ্তর ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধন।
তদারকি জোরদার: এলপিজি আমদানিকারক ও পরিবেশকদের মজুত ও সরবরাহ নিয়মিত মনিটরিং করা।

শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশনা: নির্বাচনী বা অন্য কোনো অজুহাতে যেন বাজার তদারকি ঢিলেঢালা না হয়, সে জন্য সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করা।

সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এখনই যদি বাজার নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে নিত্যপণ্যের অস্থিরতা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে সামনে রমজানকে কেন্দ্র করে অসাধু ব্যবসায়ীদের এই তৎপরতা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও দুর্বিষহ করে তুলবে।

 

-এম. এইচ. মামুন