চট্টগ্রামে তিনটি সংসদীয় আসনে ১০ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল

চট্টগ্রামের তিনটি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ১০ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই) আসনে ১৩ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও জমা দেন ১০ জন। যাচাই-বাছাইয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আশরাফ ছিদ্দিকির মনোনয়নপত্রে ভোটারদের স্বাক্ষর তালিকায় একজন মৃত ব্যক্তির নাম ও স্বাক্ষর পাওয়া যায়। এ অনিয়মের কারণে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। একই আসনে বিএনপি নেতা শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী দলীয় মনোনয়ন ছাড়াই নিজেকে বিএনপির প্রার্থী উল্লেখ করায় তার মনোনয়নপত্র গ্রহণযোগ্য হয়নি। এছাড়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ এরশাদ উল্লা নিজেই নিজের প্রস্তাবকারী হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে ১৪ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও জমা দেন নয়জন। যাচাইয়ের সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী জিন্নাত আক্তারের এক শতাংশ ভোটারের তালিকা থেকে বাছাইকৃত ১০ জনের মধ্যে আটজন স্বাক্ষরের বিষয়টি অস্বীকার করেন। ফলে তার প্রার্থিতা বাতিল হয়। একই আসনে প্রয়োজনীয় এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর না থাকায় আহমদ কবিরের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। দলীয় মনোনয়ন ও হলফনামা দাখিল না করায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এইচ এম আশরাফ বিন ইয়াকুবের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। পাশাপাশি সমর্থনকারীর স্বাক্ষর না থাকায় গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী রবিউল হাসানও বাদ পড়েন।

চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে ১০ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও জমা দেন পাঁচজন। এর মধ্যে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এম এ ছালামের মনোনয়নপত্রে দলের চেয়ারম্যানের পরিবর্তে দলের একাংশের মহাসচিবের স্বাক্ষর থাকায় সেটি বাতিল করা হয়। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোয়াহেদুল মাওলার ঋণখেলাপি হওয়া এবং ভোটার স্বাক্ষর যাচাইয়ে অনিয়মের কারণে তার মনোনয়ন বাতিল হয়। দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ আমজাদ হোসেনের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আগামী রবিবার (৪ জানুয়ারি) থেকে চার দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ পাবেন।

সাবরিনা রিমি/