ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার (জিইউআর) প্রধান কিরিলো বুদানভকে প্রেসিডেন্টের দপ্তরের নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। গত নভেম্বরে দুর্নীতির কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে আগের শীর্ষ সহযোগীর পদত্যাগের পর শুক্রবার (২ জানুয়ারি) এই বড় ঘোষণাটি এলো।
বুদানভ: রণক্ষেত্রের নায়ক থেকে প্রশাসনিক শীর্ষে
৩৯ বছর বয়সী কিরিলো বুদানভ ইউক্রেনে বর্তমানে একজন কিংবদন্তিতুল্য ব্যক্তিত্ব। ২০২২ সালে রাশিয়ার সর্বাত্মক হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে একের পর এক সাহসী ও কৌশলী সামরিক অভিযানের নকশা করে তিনি দেশি-বিদেশি মহলে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জেলেনস্কি জানান, “আমি কিরিলো বুদানভের সঙ্গে বৈঠক করেছি এবং তাকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের প্রধানের দায়িত্ব পালনের প্রস্তাব দিয়েছি। ইউক্রেনের বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক আলোচনার ধারায় তার বিশেষ অভিজ্ঞতা অত্যন্ত জরুরি।”
চ্যালেঞ্জিং সময়ে নতুন দায়িত্ব
রাশিয়ার সঙ্গে প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই নিয়োগ এলো। সম্প্রতি জেলেনস্কি জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র-মধ্যস্থ একটি শান্তিচুক্তি প্রায় ‘৯০ শতাংশ’ প্রস্তুত। এমন সময়ে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার পাশাপাশি কৌশলগত কূটনীতিতে বুদানভের মতো একজন দৃঢ়চেতা নেতার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন জেলেনস্কি।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে বুদানভ টেলিগ্রামে বলেন, “ইউক্রেনের জন্য এই ঐতিহাসিক সময়ে কৌশলগত নিরাপত্তার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মনোযোগ দেওয়া আমার জন্য যেমন গৌরবের, তেমনি দায়িত্বের বিষয়। আমি ইউক্রেনের সেবায় কাজ চালিয়ে যাব।”
ইয়ারমাকের স্থলাভিষিক্ত হলেন বুদানভ
বুদানভ মূলত আন্দ্রি ইয়ারমাকের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। জেলেনস্কির সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ও ক্ষমতাধর সহযোগী হিসেবে পরিচিত ইয়ারমাক গত নভেম্বরে তার বাড়িতে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে তল্লাশির পর পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। সমালোচকদের মতে, ইয়ারমাক ক্ষমতার অতি-কেন্দ্রীকরণ এবং বিরোধী মত দমনের মাধ্যমে কিয়েভে বিতর্কিত হয়ে উঠেছিলেন।
যুদ্ধের ভয়াবহতা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী এই সংঘাতে গত চার বছরে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ইউক্রেনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে বুদানভের নিয়োগ ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ প্রশাসন এবং বহিঃবিশ্বের সাথে সামরিক-কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন মোড় আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।










