দীর্ঘ যুদ্ধ আর ধ্বংসের পর গাজায় নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর আশার কথা শোনা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, গাজা পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তার জন্য বিভিন্ন দেশ মিলিয়ে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
রবিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, এই অর্থ দেবে ‘বোর্ড অব পিস’ নামের একটি আন্তর্জাতিক জোটের সদস্য দেশগুলো। তিনি জানান, শুধু অর্থ নয়—গাজার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হাজার হাজার সদস্য পাঠানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে এসব দেশ। এই বাহিনী জাতিসংঘের অনুমোদনে কাজ করবে। এতে থাকবে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী ও স্থানীয় পুলিশ।
আগামী বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে বোর্ড অব পিসের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানেই এই অর্থ সহায়তার ঘোষণা আনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হামাসকে অবশ্যই অস্ত্র পরিত্যাগ করতে হবে। তার ভাষায়, ‘পূর্ণ ও তাৎক্ষণিকভাবে অস্ত্র ত্যাগ করা খুবই জরুরি।’ এই বিষয়টি নিয়ে ১৯ ফেব্রুয়ারি বোর্ড অব পিসের বৈঠকে আলোচনা হবে।
এই অস্ত্র ত্যাগের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপের অংশ। গত অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে এই যুদ্ধবিরতি হয়। পরে নভেম্বরে জাতিসংঘ এই পরিকল্পনাকে সমর্থন দেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধীরে ধীরে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা সরিয়ে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে হামাসের অস্ত্র জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তবে হামাস বহুবার জানিয়েছে, অস্ত্র ত্যাগ তাদের জন্য রেড লাইন ( মানা সম্ভব নয়)। যদিও ভবিষ্যতে কোনো ফিলিস্তিনি প্রশাসনের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়ার কথা তারা ভাবতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে গাজার শাসনভার নেওয়ার জন্য একটি ফিলিস্তিনি কারিগরি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
-সাইমুন










