সৌদি আরবে সরকারি খাতে শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করেছে দেশটির দুর্নীতিবিরোধী কর্তৃপক্ষ ‘নাজাহা’ (Nazaha)। ঘুষ গ্রহণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার অন্তত ১১৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুবাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। নাজাহা জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসজুড়ে দেশজুড়ে বিশেষ অভিযান ও ১ হাজার ৪৪০টি পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এই দীর্ঘ নজরদারির পর মোট ৪৬৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করা হয়। ব্যাপক তদন্তের পর ১১৬ জনকে সরাসরি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে আইনি প্রক্রিয়া মেনে তাদের মধ্যে কয়েকজনকে পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্তদের তালিকায় দেশটির প্রভাবশালী একাধিক মন্ত্রণালয়ের কর্মীরা রয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পৌর ও আবাসন মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মূলত ঘুষ গ্রহণ, জালিয়াতি এবং সরকারি পদের অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত মুনাফা লাভের অভিযোগ আনা হয়েছে। নাজাহা’র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সরকারি খাতের সর্বস্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং জনগণের অর্থের সুরক্ষা দিতে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত বিচার বিভাগের কাছে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে।
দুর্নীতি নির্মূলে দেশটির সরকার জনসাধারণের সহযোগিতা চেয়েছে। যেকোনো প্রশাসনিক বা আর্থিক দুর্নীতির সন্দেহজনক তথ্য টোল-ফ্রি নম্বর (৯৮০) অথবা নাজাহা’র ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানানোর জন্য নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে সৌদি আরবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে, যার ধারাবাহিকতায় এই সর্বশেষ অভিযান পরিচালিত হলো।
-এম এইচ মামুন










