উষ্ণতার খোঁজে পাহাড়ে নাগরিক পরিষদের শীতবস্ত্র কর্মসূচি

পাহাড়ি অঞ্চলে শীত আসা মানেই শুধু তাপমাত্রা কমে যাওয়া নয়, বরং অসহায় মানুষের জন্য শুরু হয় টিকে থাকার নতুন লড়াই। নিম্নআয়ের পরিবারগুলোতে শীতবস্ত্রের অভাব তখন নীরব সংকটে রূপ নেয়। এই বাস্তবতায় দীঘিনালায় সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে এগিয়ে এসেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ।

সংগঠনটির দীঘিনালা উপজেলা শাখা বুধবার উপজেলার কয়েকটি প্রান্তিক এলাকায় শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। কর্মসূচির আওতায় জামতলি বাঙালি পাড়া, রশিকনগর, মধ্যবেতছড়ি গোরস্তান পাড়া ও কবাখালি এলাকায় শতাধিক শীতার্ত মানুষের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেওয়া হয়। প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে সরাসরি গিয়ে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ায় উদ্যোগটি স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়।

এই মানবিক কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন নাগরিক পরিষদের দীঘিনালা উপজেলা শাখার সভাপতি ও শিক্ষানবিশ আইনজীবী জাহিদ হাসান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মুনসুর আলম হীরা, সিনিয়র সহসভাপতি আল আমিন হাওলাদার, জহিরুল ইসলাম, ইয়াছিনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দের সরাসরি উপস্থিতি কর্মসূচিকে আরও কার্যকর ও প্রাণবন্ত করে তোলে।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জাহিদ হাসান বলেন, পার্বত্য এলাকার ভৌগোলিক বাস্তবতা মানুষের জীবনকে তুলনামূলক কঠিন করে তোলে, বিশেষ করে শীত মৌসুমে। তিনি বলেন, মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ যেন শীতে অবহেলিত না থাকে—সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই কর্মসূচি।

উপকারভোগীরা জানান, শীতবস্ত্র পাওয়া তাদের জন্য তাৎক্ষণিক স্বস্তির পাশাপাশি মানসিক শক্তির উৎস হয়েছে। অনেকের মতে, এমন সহায়তা তাদের অস্তিত্বের সংগ্রামে সমাজের পাশে থাকার অনুভূতি জাগায়।

সামগ্রিকভাবে দীঘিনালায় নাগরিক পরিষদের এই শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম একটি মৌসুমি সহায়তার চেয়ে বেশি কিছু এটি পাহাড়ি জনপদের সামাজিক সংহতি ও মানবিক দায়বদ্ধতার এক বাস্তব উদাহরণ, যেখানে সংকটের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বার্তাই মুখ্য হয়ে উঠেছে।

মোঃ লোকমান হোসেন,দীঘিনালা উপজেলা প্রতিনিধি/